সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সোনামুখী মেলায় চলছে প্রকাশ্যে জুয়া খেলা। রাতভর এ জুয়ার আসরে প্রতিদিন জড়ো হয় শতাধিক মানুষ। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এমন কার্যক্রম চললেও স্থানীয় পুলিশ বলছে—তারা এ বিষয়ে কিছু জানে না।
জানা গেছে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রায় তিনশ বছর ধরে বসে সোনামুখী মেলা। এ বছরও জেলা প্রশাসনের অনুমতিতে মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যার শেষ দিন আজ শুক্রবার (২৪ অক্টোবর)। অনুমতির শর্ত অনুযায়ী মেলায় অশ্লীল নাচ-গান, যাত্রা, সার্কাস, জুয়া বা মাদকসংক্রান্ত কোনো কার্যক্রম চলার কথা নয়। কিন্তু সেই শর্ত অমান্য করে মেলায় রাতভর চলছে জুয়ার আসর।
বৃহস্পতিবার রাতে সোনামুখী উচ্চবিদ্যালয়ের দক্ষিণে নিশি বাড়ি (শ্মশান ঘাট) এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, সেখানে বসেছে বড় একটি জুয়ার টেবিল। অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি খেলায় অংশ নিচ্ছেন। ঘুঁটি ও তাসের প্রতীকে টাকা রেখে খেলা চলছে। সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে শুরু হলেও কেউ কেউ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বাজি ধরছেন। দর্শকের ভিড়ে পুরো এলাকা সরব হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন রাত ৮টা থেকে ভোর পর্যন্ত চলে এই জুয়ার আসর। এতে দূরদূরান্ত থেকে লোক আসে এবং প্রতিরাতে কয়েক লাখ টাকার লেনদেন হয়।
এ আসরের নিয়ন্ত্রক হিসেবে স্থানীয় বাবলু মিয়ার নাম উঠে এসেছে। তিনি কাজীপুর উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেছেন, তিনিই পুরো আয়োজন পরিচালনা করছেন।
যোগাযোগ করা হলে বাবলু মিয়া বলেন, “সবাইকে জানিয়ে কাজ করছি, কোনো সমস্যা হবে না।”
তবে কাজীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম বলেন, “মেলায় এমন কোনো ঘটনার খবর পাইনি। খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল, তবে কাউকে আটক করা যায়নি।”
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার ফারুক হোসেন বলেন, “মেলায় জুয়া চালানোর অনুমতি নেই। কেউ এমন কার্যক্রমে যুক্ত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কাজীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, “জুয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আরও পড়ুন:








