দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সমন্বয় কমিটির সদস্য আসাদ খোকনকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি প্রদান করেছে দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) রাতে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী আজিজুর রহমান লিটন জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশক্রমে আসাদ খোকনকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, তা আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে শোকজ করা হয়েছে।
অব্যাহতির চিঠিতে বলা হয়, আসাদ খোকনের বিরুদ্ধে গুরুতর দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ উত্থাপিত হয় এবং কেন্দ্রীয় কমিটির নিকট তা প্রাথমিকভাবে সত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
এমতাবস্থায়, আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে তাকে জেলা সমন্বয় কমিটির সদস্যপদসহ সকল দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কেন দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না, তার লিখিত ব্যাখ্যা তিন কার্যদিবসের মধ্যে এনসিপির শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল-আমিন বরাবর জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের লক্ষীপুর মৌজার ৯৫০ ও ৯৬৩ দাগের দুটি খাস পুকুর বহু বছর ধরে স্থানীয় দারুল কোরআন মাদরাসা, মসজিদ ও কবরস্থানের নামে ইজারা নিয়ে উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার হয়ে আসছিল।
অভিযোগ রয়েছে, এনসিপির জেলা সমন্বয় কমিটির সদস্য আসাদ খোকন সম্প্রতি ঐ দুটি খাস পুকুর অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করেন। বিষয়টি জানার পর উপজেলা ভূমি অফিস স্থানীয়দের মধ্যে উন্মুক্ত ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেয়।
ইজারার খবরে খোকন অন্যদের অংশগ্রহণে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি হুমকি দেন বলেও অভিযোগ উঠে। গত ১৪ অক্টোবর এসিল্যান্ড অফিসে ইজারা প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত চারজন স্থানীয় ব্যক্তির ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হন।
এই ঘটনায় নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানায় আসাদ খোকনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আসাদ খোকন বলেন, আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাসিরনগরে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসছি। এরই জের ধরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে আমাকে টার্গেট করা হচ্ছে। পুকুর ইজারার ঘটনায় আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিতও ছিলাম না। বরং উল্টোভাবে আমাকে হেনস্তা করা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, কিছু কুচক্রী মহল স্থানীয়দের ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে, যাতে আমাকে রাজনৈতিকভাবে বেকায়দায় ফেলা যায়।
এনসিপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়ে এনসিপি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে বলেও কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্বশীল এক সদস্য জানান।
আরও পড়ুন:








