যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ভবদহ অঞ্চলে শুরু হয়েছে পাঁচ নদীর পুনঃখনন কাজ। দীর্ঘ চার দশকের জলাবদ্ধতার দুঃখ ঘোচাতে শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় ভবদহ সুইসগেটের পাশে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কাজের উদ্বোধন করেন সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল মামুন উর রশিদ।
কপোতাক্ষ নদ ও তৎসংলগ্ন এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্প-এর আওতায় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এই খনন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যশোরের জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী, মনিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পাউবোসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
পলি পড়ে ভবদহ অঞ্চলের পাঁচ নদী মুক্তেশ্বরী, টেকা, আপারভদ্রা, শ্রী ও হরিহর—নাব্যতা হারিয়ে ফেলায় যশোর, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বছরের পর বছর স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার হয়। চলতি বর্ষায়ও ভবদহের আড়াই শ’ গ্রামের প্রায় চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছিলেন। তাই বহুদিন ধরেই ভবদহকে ‘যশোরের দুঃখ বলা হয়ে আসছে।
এই দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগ থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের আওতায় ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার নদীপথ পুনঃখনন করা হবে। এর আগে ভবদহের আমডাঙ্গা খাল খনন ও বেড়িবাঁধ নির্মাণে ৪৯ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয় সরকার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আজ থেকে ভবদহ অঞ্চলে নদী পুনঃখননের নতুন যাত্রা শুরু হলো। টেকা ও হরিহর নদীর খনন সম্পন্ন হলে ভবদহবাসীর দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে। পাশাপাশি পলি অপসারণ ও দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের প্রকল্পও হাতে নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনের দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে।
এক প্রবীণ কৃষকের আবেগঘন মন্তব্য বছরের পর বছর পানিতে ডুবে ছিলাম, আজ মনে হচ্ছে সত্যিই হয়তো মুক্তি পাবো।
প্রকল্পের আওতায় পুনঃখনন হবে ৫ নদী দৈর্ঘ্য ৮১.৫ কিমি প্রকল্প ব্যয় ১৪০ কোটি টাকা বাস্তবায়নে সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড
আরও পড়ুন:








