সোমবার

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

বাণিজ্যিক স্থাপনা উচ্ছেদের দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নারী শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর, ২০২৫ ২১:১৯

শেয়ার

বাণিজ্যিক স্থাপনা উচ্ছেদের দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নারী শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ছবি: বাংলা এডিশন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজের সামনের থেকে বাণিজ্যিক স্থাপনা উচ্ছেদের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে। পরে তারা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচী পালন করেন।

এদিকে ব্যবসায়ীদের এক মামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও জেলা প্রশাসকসহ পাঁচজনকে কারণ দর্শানোটির নোটিশ দিয়েছেন আদালত।

গতকাল দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা কলেজের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি হাসপাতাল রোড, পুরাতন কাচারী পুকুর পাড়, টিএরোড, কালীবাড়ি মোড়, কাউতলী প্রদক্ষিণ শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের যান।

শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি জমা দেন। জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শঙ্কর কুমার বিশ্বাসের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।

শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের পরিবার ও আত্মীয় স্বজনরা প্রায় কলেজে আমাদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। কিন্তু কলেজের প্রধান ফটক ছোট হওয়ার কারনে অনেকেই তা চিনতে পারেন না। এমনকি কোন রিকশা চালকও কলেজের নাম চিনে কিন্তু ফটক (গেইট) চিনে না। রিকশাও উঠলে চালকরা আমাদেরসহ স্বজনদের হাসপাতালের সামনে নামিয়ে দেন।

তারা আরো জানান, কলেজের ফটক (গেইট) দিয়ে আসা-যাওয়ার সময় শিক্ষার্থীরা ইভটিজিংয়ের সম্মুখীন হতে হয়। কলেজের সামনে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা শিক্ষার্থীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। শিক্ষার্থীরা এসব স্থাপনাকে অবৈধ উল্লেখ করে দ্রুত উচ্ছেদসহ দৃষ্টিনন্দন ফটক ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের দাবি জানান।

এর আগে গত ১৫ ও ২১ অক্টোবর একই দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানবন্ধন করে। গত ১৫ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল হান্নান খন্দকারের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজ মার্কেটের দোকানগুলো চুক্তিনামা অনুযায়ী বৈধ। ১৯৮৪ সালে কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দোকানের বিষয়ে পৃথক চুক্তি হয়।

প্রত্যেক দোকানের বিপরীতে তৎকালীন ২৮ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। ব্যবসায়ীরা নিয়মিত দোকানের ভাড়া পরিশোধ করে দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে সেখানে ওষুধের ব্যবসা করে আসছেন। ওষুধ ব্যবসায়ীদের পক্ষে ফখরুল ইসলাম ছিদ্দিকী সম্প্রতি দোকানের উচ্ছেদ অভিযান বন্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি এবং বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে আরেকটি মামলা করেন।

গত সোমবার উচ্ছেদ মামলার বিবাদী ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) ১০ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি আগামী বছরের ১৯ জানুয়ারি মামলার নিষ্পত্তির তারিখ ঘোষণা করা হয়।



banner close
banner close