বগুড়ার শাজাহানপুরে চাঁদা না পেয়ে এক বালু ব্যবসায়ীর ম্যানেজার ও ড্রাইভারকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে একদল দুর্বৃত্ত। এ সময় তারা ভেকু ভাঙচুর ও যন্ত্রাংশ ছিনিয়ে নিয়ে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে। গুরুতর আহত দুইজনকে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (২১ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের শৈলধুকুরী পূর্বপাড়া এলাকায় বাঙালি নদীর পাড়ে অবস্থিত বালু ঘাটে।
আহতরা হলেন শাজাহানপুর উপজেলার সোনাকানিয়া গ্রামের জিল্লুর রহমান (৩৫) এবং একই উপজেলার বেল্লাল হোসেন (২৩)। তাঁরা বালু ব্যবসায়ী মাসুদুজ্জামান (৫০)এর ঘাটে কর্মরত ছিলেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বালু ব্যবসায়ী মাসুদুজ্জামান প্রায় এক বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিলাম থেকে বাঙালি নদীর বালু উত্তোলনের অনুমতি পান। এরপর থেকেই স্থানীয় একটি চক্র তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। টাকা না দেওয়ায় ওই চক্রটি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
এ ঘটনায় মাসুদুজ্জামান থানায় লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, সোমবার রাতে সাব্বির হোসেন (২৪), মজনু মিয়া (৫৫), ফয়জুল (৪০), রাহুল (১৯), মঞ্জু (৪৫), রোমান (১৯), সম্রাট (১৯)সহ ১০–১২ জন হাতে লাঠি, কাঠের বাটাম ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বালু ঘাটে হামলা চালায়। তারা ঘুমন্ত অবস্থায় ম্যানেজার জিল্লুর রহমানের ওপর হামলা চালিয়ে মাথা, হাত ও পায়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে।
চিৎকার শুনে ড্রাইভার বেল্লাল এগিয়ে গেলে তাকেও বেধড়ক পেটায়। হামলাকারীরা ভেকুর গ্লাস, তালা ও বৈদ্যুতিক তার কেটে প্রায় ৭০ হাজার টাকার ক্ষতি করে এবং ভেকুর দুটি ব্যাটারি (মূল্য আনুমানিক ৩৮ হাজার টাকা) ছিনিয়ে নেয়।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন।
অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা পালানোর সময় প্রাণনাশের হুমকিও দেয়। চাঁদার টাকা না দিলে তোদের মেরে নদীতে ফেলে দেব।
বালু ব্যবসায়ী মাসুদুজ্জামান জানান, চাঁদা না দেওয়ায় বারবার হুমকি দিচ্ছিল। অবশেষে তারা আমার কর্মচারীদের মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে। আমি আইনগত বিচার চাই।
এবিষয়ে অভিযুক্ত সাব্বিরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত। আগামীতে সভাপতি কেন্ডিডেট। এলাকার সমস্যা এবং তার বাপ-দাদার জমি নষ্ট হচ্ছে। আর এখান থেকে বালু নিতে আসলে তার লাশ যাবে বলো মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়ে বগুড়া সদর সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর বলেন, সন্ত্রাসীদের বিষয়ে জিরো চলারেন্স। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:








