রাঘব বোয়ালদের ছত্রছায়ায় ফেনীতে বাড়ছে মাদকসেবীর সংখ্যা।
সরকার আসে, সরকার যায়। এই যাওয়া-আসার মাঝেই পাল্টায় অনেক কিছু। কেবল বদলায় না মাদক ব্যবসার চিত্র। যেমনটি বদলায়নি ফেনী জেলার লালপোল বেদে পল্লীসহ শহরের বিভিন্ন মাদক স্পটের অবস্থা। ভারত সীমান্তের একাধিক পয়েন্ট দিয়ে রীতিমতো রাঘব-বোয়ালদের ছত্রছায়ায় ফেনীতে অবাধে ঢুকছে মাদক। এমনটাই জানালো খোদ মাদক সেবনকারীরা।
বিভিন্ন চক্রের মাধ্যমে পরশুরাম ও ফুলগাজীসহ একাধিক স্থান দিয়ে মাদক আশায় জেলাজুড়ে ছয়লাভ হয়ে পড়েছে মাদক। তাই সহজলভ্য হওয়ায় বেকার তরুণসহ নানা পেশার মানুষ মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
গত এক বছরের পরিসংখ্যান বলছে, শুধু ফেনীতেই বিজিব’র ব্যাটালিয়ন ৪ ভারত থেকে আসা আনুমানিক সাড়ে ৫ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে। আর র্যাব-৭ এর সূত্র বলছে, একই সময় স্থানীয় অভিযান ও মাদক দমন কার্যক্রমে ৬ লাখ ৭৭ হাজার টাকার মাদক জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয় ৮২ মাদক কারবারিকে।
শুধু মাদক জব্দ ও গ্রেপ্তার করেই এর মরণ থাবার বিস্তার রোধ করা যাবে না। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠাগুলোতে তরুণ সমাজকে সচেতনতামূলক দিক-নির্দেশনা দেয়ার পরামর্শ দেন সুশীল সমাজ। এছাড়া সন্তানদের প্রতি খেয়াল রাখার কথাও বলছে তারা।
তবে এ নিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নেই কোনো নিয়ন্ত্রণ। অধিদপ্তরের ফেনী অফিসে গিয়ে পাওয়া গেলো মাত্র দু’জনকে। এর মধ্যে একজন সিপাহী যার পরনে ছিলো না কোন ডিউটি পোশাক। অন্যজন দুপুর আড়াইটার পরপরই বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। মাদক নিয়ন্ত্রণে যেখানে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকার কথা সেখানে চলছে দায়সারা গোছের দায়িত্ব পালন।
এ নিয়ে অধিপ্তরের উপ-পরিচালক বজলুর রহমানের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বাংলা এডিশনকে দেন ভিন্ন ব্যাখ্যা। বলেন, রসায়নিক পরীক্ষা অথবা রিপোর্ট পাঠানোর জন্য অনেক ক্ষেত্রে স্যাম্পল রাখা হয়।
বিগত সময়ে একাধিকবার মাদকের চালান আটক করা হলেও ফাঁকফোকড় দিযে বেরিয়ে যায় মাদক ব্যবসায়ীরা। তবে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তথ্য নিয়ে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান, ফেনীর পুলিশ সুপার।
আরও পড়ুন:








