আর কদিন পর শুরু হবে সব শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা। এর পাশাপাশি রয়েছে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা। এমন সময় পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার পৌর শহরের পাবলিক মাঠে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে। এ মেলা আয়োজনের নেপথ্যে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে বাউফলের ইউএনও আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে মেলা বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ৪০ জন অভিভাবক। এছাড়া বুধবার বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় একটি অসাধু চক্র মেলার নামে অর্থ উপার্জনের ধান্ধায় বাউফল পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে মাসব্যাপী এ মেলার আয়োজন করছে। ইতিমধ্যে মাঠজুড়ে মেলার অবকাঠামো নির্মাণের কাজও চলছে জোরেশোরে। মাঠে ইট, বালু ও সিন্টার ভরাটের কাজ চলছে। এতে মাঠটি খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এটি শহরের একমাত্র উন্মুক্ত খেলার মাঠ। প্রতিদিন বিকেলে ফুটবলসহ বিভিন্ন শারীরিক অনুশীলন করে শিক্ষার্থীরা। সকাল, বিকেল ও সন্ধ্যায় নানা বয়সী মানুষ হাঁটাহাঁটি করেন শারীরিক সুস্থতার জন্য। মাঠের চারপাশে রয়েছে আবাসিক এলাকা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদরাসা, হাসপাতাল, ক্লিনিক ও কিন্ডারগার্টেন স্কুল। সেখানে মেলা বসালে শব্দ ও পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি তীব্র যানজটের সৃষ্টি হবে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
এদিকে, রবিবার জেলা প্রশাসকের কাছে মেলা বন্ধের দাবিতে লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। শিক্ষার্থীদের আসন্ন পরীক্ষার সময় মেলা আয়োজন না করার অনুরোধ জানিয়ে ৪০ জন অভিভাবক স্বাক্ষরিত আবেদন জমা দেন। এছাড়া বুধবার বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেছেন উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বিভিন্ন স্কুলের একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এ অবৈধ মেলার নেপথ্যে কাজ করছেন বাউফলের ইউএনও আমিনুল ইসলাম। তিনি একটি চক্রের দ্বারা মেলার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাই অনুমতি ছাড়াই মেলার কার্যক্রম চলছে। তা নাহলে কিভাবে একটি সরকারি খেলার মাঠে এ ধরনের মেলার আয়োজন হয়? শিক্ষার্থীদের ফাইনাল পরীক্ষার কথা চিন্তা করে এ অবৈধ মেলা বন্ধ করা জরুরি।’
অভিযোগ বিষয়ে জানতে ইউএনও আমিনুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও ফোন রিসিভ করেননি।
পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘মেলা আয়োজনের অনুমতি দেয়া হয়নি।’
উল্লেখ্য, বাউফলের ইউএনও আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে পূর্বেও সাংবাদিককে জেলে ভরার হুমকি, জুলাইয়ে নারী নেতৃত্বের ওপর হামলা, নির্যাতন, প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন:








