দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে পাঁচ আগস্টের পর থেকে শুরু হয়েছে রাজস্ব ফাঁকির মহা উৎসব। অভিযোগ উঠেছে বেনাপোল কাস্টম হাউযের কিছু অসাধু কর্মকর্তা, স্থলবন্দরের শেড ইনচার্জ ও তাদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় কোটি কোটি টাকার আমদানি পণ্যের রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হচ্ছে। ফলে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, আমদানিকারক ও কিছু সি অ্যান্ড এফ এজেন্টের সাথে মিলে বন্দর সংশ্লিষ্ট একটি চক্র অবৈধ ও চোরাচালান পণ্যকে বৈধ দেখিয়ে ছাড় করছে। বেনাপোল স্থলবন্দরের শেড ইনচার্জদের মধ্যে কয়েকজন সরাসরি রাজস্ব ফাঁকির কাজে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি বেনাপোল স্থলবন্দরের নিরাপত্তা বাহিনীর ট্রাক থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে দুই প্লাটুন আনসার সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়। আনসার প্রত্যাহারের পরই প্রকাশ্যে আসে রাজস্ব ফাঁকির আসল চিত্র।
সূত্র জানিয়েছে, রাজস্ব ফাঁকি ও চোরাচালান কর্মকাণ্ডের মূল হোতা হিসেবে বেনাপোল কাস্টম হাউজের ওয়্যারহাউস সুপারিনটেনডেন্ট আশিকুর রহমান রনি, রফিকুল ইসলাম ওরফে, আসমাউল হোসেন, রজব আলী ও জাবেদী বিল্লাহ’র নাম উঠে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, বেনাপোল পোর্ট থানার সাবেক ওসি অপূর্ব হাসান দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে চোর রফিককে দুইবার গ্রেপ্তার করলেও মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেন।
তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ আগস্টের পর থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত মোট ৮৯১টি মেনিফেস্টে পণ্য আমদানি হয়েছে বলে কাগজপত্রে উল্লেখ থাকলেও, বেনাপোল কাস্টম হাউসের অ্যাসাইকুডা সিস্টেমে সঠিক তথ্য রয়েছে মাত্র ২১৭টি মেনিফেস্টের। বাকি ৭৭৪টি মেনিফেস্টের কোনো তথ্যই সিস্টেমে নেই।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ সি অ্যান্ড এফ এজেন্টদের অভিযোগ, বেনাপোল কাস্টম হাউজের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, আইআরএম শাখার কর্মচারী এবং স্থলবন্দরের শেড ইনচার্জরা পরস্পরের যোগসাজশে সরকারের রাজস্ব গিলে খাচ্ছে।
বেনাপোলের সচেতন মহল এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে।
আরও পড়ুন:








