আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির নেতাকর্মীরা কোণঠাসা হয়ে ছিলেন। তবুও আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে এসেছে। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জয়পুরহাট-২ (কালাই, ক্ষেতলাল, আক্কেলপুর) আসনে বিএনপি বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর নিজেদের মধ্যে কোন্দল ও কাদা ছোড়াছুড়িতে জর্জরিত হয়ে আছে দলটির নেতাকর্মীরা।
এক সময় এ সংসদীয় আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি দল জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিএনপির দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা অনেক আগেই নির্বাচনী এলাকায় তৎপরতা শুরু করেছেন। জয়পুরহাট-২ আসনে বিএনপির প্রায় অর্ধডজন মনোনয়নপ্রত্যাশীর নাম শোনা যাচ্ছে। তাঁদের মধ্যে অনেকে জোরেশোরে নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ ও সভা-সমাবেশ করছেন।
বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, একসময় জয়পুরহাট বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৯১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এ সংসদীয় আসন বিএনপির দখলে ছিল। এরপর আওয়ামী লীগের দখলে যায়।
জামায়াতের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাট-২ আসনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ আসনে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এস. এম. রাশেদুল আলম সবুজকে মনোনীত করা হয়েছে। দলীয় নেতা-কর্মীদের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। জামায়াতের এই নেতা বলেন, নির্বাচনের সব প্রস্তুতি তাঁরা সম্পন্ন করেছেন এবং নির্বাচনে জয়ী হবেন বলে আশাবাদী।
অন্যদিকে, এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে রয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব আব্দুল বারী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজশাহী বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এ. এইচ. এম. ওবায়দুর রহমান চন্দন, সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা আব্বাস আলী, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক লায়ন সিরাজুল ইসলাম বিদ্যুৎ এবং ইঞ্জিনিয়ার আমিনুর ইসলাম সিআইপি।
এদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে জয়পুরহাট-২ আসনে নাজমুল হাসান মাহমুদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি নির্বাচিত হলে দলীয় ইশতেহার বাস্তবায়ন ও মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন:








