মঙ্গলবার

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৫ ফাল্গুন, ১৪৩২

সাভারে শিক্ষার্থীকে নির্যাতন পরিকল্পিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর, ২০২৫ ১১:২৬

শেয়ার

সাভারে শিক্ষার্থীকে নির্যাতন পরিকল্পিত
ছবি: সংগৃহীত

টিম বাংলা এডিশনের এ যাত্রার গন্তব্য সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের আকরান বাজার এলাকায়।

টিম বাংলা এডিশন সোমবার সকালে যাত্রা শুরু করে বিরুলিয়ার দিকে। যেখানে ঘটেছে এক মর্মান্তিক ঘটনা। সম্প্রতি, সেখানে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম শিক্ষার্থীকে দু’জন খ্রিষ্টান ও একজন হিন্দু যুবক করেছে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, চালিয়েছে মানসিক নির্যাতন। আমরা কথা বলতে চাই সেই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের সাথে ঠিক কি হয়েছিলো সেদিন তার সাথে। কিভাবে সন্ত্রাসীদের লালসার শিকার হলেন তিনি।

দিনটি ছিলো ১৪ অক্টোবর। প্রতিদিনের মতো সেদিনও টিউশনি থেকে সন্ধ্যা সাত টায় বাসায় ফেরে ওই নারী শিক্ষার্থী। বাসায় ফিরে গেইট তালাবদ্ধ দেখে চলে যান যে দোকানে চাবি রেখে যায় পরিবার সেই দোকানে। পরিবারের দাবি, দোকান বন্ধ পেয়ে সেই দোকানীর বাসায় যান তিনি। দোকানদার লিটন মিয়া জানান, সাতটার দিকে তার দোকান বন্ধ করে গিয়েছিলেন সিগারেট আনতে।

ভুক্তভোগীর মা জানান, তাদের বাসা থেকে দোকান এবং সেখান থেকে দোকানির বাসা পর্যন্ত পুরোটাই অন্ধকার ও নির্জন এলাকা। দোকানির বাসায় যাওয়ার পথে প্রথমে হাত ধরে সোহেল রোজারিও। কেনো হাত ধরেছে জানতে চেয়ে সোহেলকে সরি বলতে বলেন ওই নারী শিক্ষার্থী। এরপর দোকানীর বাসা থেকে ফেরার পথে আবারও তার হাত ধরে টানাহেঁচড়া করে সোহেল। একপর্যায়ে তার দুই সহযোগী বিপ্লব রোজারিও ও মিঠু বিশ্বাস সহ জোরপূর্বক তাকে সোহেল রোজারিওর ফাঁকা বাসায় নিয়ে যায় এই সন্ত্রাসীরা।

তিনি আরও বলেন, বাসায় নেয়ার পরে সেখানে তাকে প্রথমে সম্ভ্রমহানী করে সোহেল রোজারিও। পরে ওই শিক্ষার্থীকে তার ওই দুই সহযোগীর হাতে তুলে দেয় সোহেল। এখন থেকে তাকে পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে যায় মিঠু এবং বিপ্লব। সেখানেও মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে পালাক্রমে শারীরিক নির্যাতন করে এই সন্ত্রাসীরা। এক পর্যায়ে আচেতন হলে তাকে একটি মুদি দোকানে বসায় এই তিন সন্ত্রাসী।

এনিয়ে আমরা কথা বলেছি খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী মুদি দোকানীর সাথে। সেদিন ওই শিক্ষার্থীকে কী অবস্থায় দেখেছেন সেটির বর্নণা দেন তিনি।

তিনি আরও জানায়, ওই নারী শিক্ষার্থীকে স্থানীয়দের জেরা করা দেখে পালিয়ে যায় সোহেল রোজারিও। সোহেলের বিরুদ্ধে নিজের বাড়িতে মদ বানিয়ে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। একাধিক মাদক মামলার আসমি বলেও জানান এই স্থানীয় খ্রিষ্টান বাসিন্দা।

এদিকে, মামলা পর থেকে সেনা পরিচয়ে হুমকি দিচ্ছেন খ্রিষ্টান সংগঠনের নেতা বাবুল রোজারিও, এমন অভিযোগও করেছে ভুক্তভোগী পরিবারের।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে টিম বাংলা এডিশন যায় অভিযুক্ত বাবুল রোজারিওর বাসায়। কয়েকবার দরজায় কড়া নাড়ার পর, ভেতর থেকে সাড়া দেন বাবুলের স্ত্রী। কথা বলেন আমাদের সাথে। প্রথমে বাবুল আছেন কিনা জানতে চাইলে বলেন, তিনি বাসায় নেই। এমনকি বাবুলের বিরুদ্ধে অভিযোগও অস্বীকার করেন এই নারী।

এবার আমরা যেতে চাই প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রোজারিওর বাড়িতে কথা বলতে চাই তার পরিবারের সাথে। তবে, তার বাড়িতে গিয়ে ডাকা ডাকি করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

সোহেলের বাড়ি থেকে ফিরে আমরা কথা বলি স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে। তারা এই সন্ত্রাসীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি জানান।

সাভারের এই ঘটনায় তিন জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে সাভার থানা পুলিশ। এর মধ্যে প্রধান আসামি সোহেল রোজারিওকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। এর আগে, তাকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার এসআই আব্দুল ওয়াহাব। এসময়, সোহেলের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

এসব বিষয়ে জানতে টিম বাংলা এডিশন যায় সাভার মডেল থানায়। এক ঘণ্টা অপেক্ষা করিয়ে বাংলা এডিশনকে কোনো বক্তব্য দিবেন না বলে জানান ওসি জুয়েল মিঞ্চা।

এক পর্যায়ে তিনি এডিশনাল এসপি আরাফাত হোসেনের নাম্বার দিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। আমরা এএসপি আরাফাত ও ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের মুঠোফনে কল করলে প্রথমে তারা রিসিভ না করলেও পরে তারা দুই জনেই কল কেটে দেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করেছে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস বিইউপিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মিরপুর গোলচত্ত্বর অবরোধ করে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিও জানিয়েছে তারা।

এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় সন্ত্রাসীদের ফাঁসির দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি, এনসিপিও। এ বিষয়ে সাভার উপজেলা এনসিপির সমন্বয়ক জুলকারনাইন বাংলা এডিশনকে বলেন, এঘটনার প্রতিবাদ করে, প্রশাসনের কাছে তিন দফা দাবিও জানিয়েছেন তারা।

সাভারের আলোচিত এই ঘটনাসহ ধারাবাহিক নারী নির্যাতন ও সারাদেশে অনিরাপদ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিয় ছাত্র সংসদ, জাকসু। গাজীপুরের ১৩ বছরের শিশুকে নির্যাতনসহ দেশের বর্তমান অনিরাপদ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম।

এসব বিষয়ে বাংলা এডিশনের সাথে কথা বলেছেন, জাকসুর পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ সম্পাদক সাফায়েত মীর। তিনি অভিযোগ করে বলেন, শিশু থেকে প্রাপ্ত বয়স্ক নারী কেউই এখন নিরাপদ নয়।

সম্প্রতি নারীদের সম্ভ্রমহানীর ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটছে সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুর এলাকায়। এর পেছনের কারণ হিসেবে তিনি দেখছেন, বিভিন্ন গার্মেন্টস কারখানা। এবিষয়ে বেশ কিছু যুক্তিও দিয়েছেন তিনি।

একইসাথে বিচারহীনতার সংস্কৃতিও এসব ঘটনার জন্য দায়ী বলে মনে করেন সাফায়েত।

এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা না বলছেন স্থানীয় আলেম সমাজ। তারা বলছে, পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করে মুসলিম নারীদের ক্ষতি করছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো।

সাধারণ মানুষ বলছে, প্রশাসনের কারণেই ভুক্তভোগীরা বিচারহীনতায় ভুগছে, বাড়ছে একের পর এক অপরাধ।



banner close
banner close