মঙ্গলবার

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৫ ফাল্গুন, ১৪৩২

নাহার এগ্রোর পরিত্যক্ত তুষে দূষিত সোনা পাহাড় এলাকা, ভোগান্তিতে স্থানীয়রা

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর, ২০২৫ ১৯:০৯

শেয়ার

নাহার এগ্রোর পরিত্যক্ত তুষে দূষিত সোনা পাহাড় এলাকা, ভোগান্তিতে স্থানীয়রা
ছবি: বাংলা এডিশন

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার সোনা পাহাড় এলাকায় অবস্থিত পোল্ট্রি শিল্প ‘নাহার এগ্রো-এর বর্জ্যে পরিবেশ দূষণের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে খামারের ব্যবহৃত তুষ, মুরগির লিটার ও অন্যান্য বর্জ্য মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশে ফেলে রাখায় এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

সারেজমিনে দেখা যায়পরিত্যক্ত এসব বর্জ্য থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। বিশেষ করে বর্ষাকালে বৃষ্টির পানিতে এসব বর্জ্য আশপাশের পুকুর ও খালে মিশে পানি দূষণ করছে। এতে মাছ মারা যাচ্ছে, পুকুরের পানি ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়ছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে চুলকানি, ত্বকের জ্বালা ও বিভিন্ন রোগব্যাধি দেখা দিচ্ছে।

স্থানীয় রাবেয়া আক্তার বলেন, বৃষ্টি হলে লিটার বা ময়লাগুলো পানির সাথে ঘরের সামনে চলে এসে এতে দরজা বন্ধ করেও ঘরে থাকা যায় না। আমরা এর প্রতিকার চাই।

আরেক ভুক্তভোগী নারী ছাবেরা খাতুন জানান, লিটার গুলো পানিতে পড়ার কারণে পুকুরের পানি বিষাক্ত হয়ে যাচ্ছে। গোসল করলে শরীরে চুলকানিসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়।

ভুক্তভোগী শহিদুল জানান, বছরের পর বছর মহাসড়কের পাশে তুষ ও লিটার ফেলে রাখা হচ্ছে। বৃষ্টি হলে এগুলোর দুর্গন্ধে ১ কিলোমিটার এরিয়ার ভেতর থাকা যায় না। এগুলো যারা ফেলতে আসে তাদের জিজ্ঞেস করলে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলতে বলে। আর কর্তৃপক্ষকে বললে তারা নিজেদের জায়গায় ময়লা গুলো পেলতেছে বলে, অথচ জায়গাটা সরকারের।

বয়োবৃদ্ধ তাজুল হক জানান, এসব পরিত্যক্ত ময়লায় বড় বড় পোকা হয়। যেগুলো সন্ধ্যা হলে ঘরে চলে আসে। শরীর-ঘরে হাটে পোকা, এতে আমাদের ঘুমাতে সমস্যা হয়। কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা বলে তাদের জায়গায় তারা পেলতেছে।

এ বিষয়ে নাহার এগ্রোর এজিএম ফাহিম উদ্দিন বলেন, “এগুলো মুরগির লিটার নয়, তুষ। মহাসড়কের পাশে ঘাসের জমিতে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছে। রেললাইনের পাশের জমি আমাদের লিজ নেওয়া, সেখানে তারের বেড়া দেওয়া আছে।

তবে সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, রেলের জমির লিজ নেওয়া অংশে কিছু বেড়া থাকলেও বর্জ্যের বড় অংশ পড়ে আছে এর বাইরে, যা দুর্গন্ধ ও দূষণের মূল উৎস।

নাহার এগ্রোর জিএম মনোজ কুমার বলেন, “আমরা এগুলো জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করি। স্থানীয়দের অভিযোগ পেলে আমরা চুন ও ব্লেসিং পাউডার ছিটিয়ে দুর্গন্ধ দূর করার চেষ্টা করি। আমরা একদিনের জন্য ব্যবসা করতে আসিনিএলাকাবাসীর ক্ষতি আমাদের উদ্দেশ্য নয়।

এবিষয়ে কথা বলতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তারের সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলেও কল রিসিভ না করায় তার কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।



banner close
banner close