ঢাকায় দায়ের হওয়া সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বগুড়া জেলা কমিটির সাবেক সদস্যসচিব সাকিব খানকে গ্রেপ্তার করেছে।
গত সোমবার রাত পৌনে চারটার দিকে বগুড়া শহরের নারুলী এলাকার বাসা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাঁকে আটক করে। পরে রাতেই তাঁকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
মামলা সূত্রে জানাগেছে, সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে চাকরি ও বদলির ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা সাকিব খান। তার বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। মামলাটি করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরীর নির্দেশে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল আলম।
থানার জিডি নম্বর ৩১২৩৮৩৩১১ উল্লেখ করে দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, সাকিব খানসহ একাধিক ব্যক্তি সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। তাঁরা কথিত ‘উচ্চ পর্যায়ের সংযোগের’ কথা বলে সরকারি চাকরির পদায়ন ও বদলি করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ লেনদেনে জড়িত।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২০ অক্টোবর রাত পৌনে ৩টার দিকে শাহবাগ থানার আওতাধীন এলাকায় এ সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা যায়, সাকিব খান ফেসবুক ও মোবাইল যোগাযোগের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে আর্থিক লেনদেনের প্রস্তাব দিয়েছেন।
এসআই শরিফুল আলম তাঁর প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যথাযথভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)খালিদ মনসুর বলেন, সাকিব খান পছন্দসই স্থানে পুলিশে বদলি ও পদায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিযুক্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারি খোদা বকস চৌধুরীর নির্দেশে সোমবার সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে সাকিবের বাবা ফরহাদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, এই মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার ছেলে কোনো অর্থ লেনদেন বা প্রতারণায় জড়িত নয়। সাম্প্রতিক সময়ে সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমালোচনা করেছে, এজন্যই তাকে টার্গেট করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ৭ জুলাই থেকে বগুড়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে সাকিব। তখন থেকেই গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা আমাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছিল। এখন মিথ্যা মামলায় তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে।
সাকিব খানের সাম্প্রতিক ফেসবুক পোস্টগুলোতেও সরকারের সমালোচনা চোখে পড়ে।
১৯ অক্টোবর তিনি লিখেছিলেন
'জুবায়েদ হত্যাকাণ্ড নিছক দুর্ঘটনা নয়, এটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক খুন। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভয়াবহ ব্যর্থতা এর দায় এড়াতে পারে না। আরও আগে, ১৮ অক্টোবর প্রধান উপদেষ্টার এক সরকারি বিবৃতি শেয়ার করে তিনি লিখেছিলেন
'আপনার বিবৃতি আপনার পকেটে রাখেন। জনগণের সঙ্গে তামাশা বন্ধ করেন।
এই পোস্টগুলোর পরপরই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারকে অনেকেই ‘স্পষ্ট রাজনৈতিক প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখছেন অনেকই।
বগুড়া জেলা শাখার গনতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের আহবায়ক এ এম জে শাহরিয়ার জুহিন বলেন, যদি ব্যক্তিগত অপরাধ করে থাকেন, দল কোনো দায় নেবে না। কিন্তু সরকারের সমালোচনা করার কারণে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হলে গনতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ অবশ্যই প্রতিবাদ জানাবে।
এদিকে সাকিব খানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ও সাইবার সুরক্ষা আইন বাতিলের দাবিতে মঙ্গলবার বিকেলে ‘ভয়েস অব জুলাই’ নামের সংগঠন সাতমাথায় মানববন্ধন করেছেন।
আরও পড়ুন:








