মঙ্গলবার

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৫ ফাল্গুন, ১৪৩২

সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়ায় নির্বাচনী উত্তাপ: জামায়াত একক, বিএনপিতে সাত মনোনয়নপ্রার্থী

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর, ২০২৫ ১৬:৩৯

আপডেট: ২১ অক্টোবর, ২০২৫ ১৬:৪০

শেয়ার

সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়ায় নির্বাচনী উত্তাপ: জামায়াত একক, বিএনপিতে সাত মনোনয়নপ্রার্থী
সংগৃহীত ছবি

সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ দিন দিন বাড়ছে। দীর্ঘ দুই যুগ ধরে আওয়ামী লীগের দখলে থাকা আসনটিতে এবার ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশ এলাকা ছেড়ে যাওয়ায় বিএনপি ও জামায়াতের কার্যক্রম তীব্র হয়েছে। পাশাপাশি এনসিপি ও গণ অধিকার পরিষদও সক্রিয়।

আওয়ামী লীগের ইতিহাস ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

উল্লাপাড়ায় ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের দবির উদ্দিন আহমেদ প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে আব্দুল লতিফ মির্জা (১৯৮৬, ১৯৯৬), শফিকুল ইসলাম শফি (২০০৮, ২০২৪), এবং তানভীর ইমাম (২০১৪, ২০১৮) আসনটি ধরে রাখেন। অন্যদিকে ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির আব্দুল হামিদ তালুকদার, ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপির এম. আকবর আলী ও ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শামছুল আলম জয়ী হন।

জামায়াতের প্রচারণা

জামায়াতে ইসলামী একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছে। কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান সড়ক, হাট-বাজার ও জনসমাগমস্থলে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন।

বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা

বিএনপি এখনও চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তবে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা মাঠে সক্রিয়। তাদের মধ্যে রয়েছেনসাবেক এমপি ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম. আকবর আলী

জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি কেএম শরফুদ্দিন মঞ্জু

জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট সিমকী ইমাম উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল ওয়াহাব

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আজাদ হোসেন

সাবেক ডিআইজি ও পুলিশ সংস্কার কমিশনের সদস্য সচিব খান সাঈদ হাসান

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাওসার আহমেদ রনি প্রত্যাশীরা স্থানীয় যোগাযোগ, কর্মী সমর্থন ও প্রচারণার মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

অন্যান্য রাজনৈতিক দল

এনসিপি প্রার্থী এখনও চূড়ান্ত করেনি। দলীয় নেতৃত্ব নিয়মিত নির্বাচনী এলাকা পরিদর্শন ও জনগণের সঙ্গে সংযোগ রাখছে। গণ অধিকার পরিষদও প্রার্থী ঘোষণা করে প্রচারণা শুরু করেছে।

সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শফিকুল ইসলাম জয়ী হন ১ লাখ ৬২ হাজার ৫০৩ ভোট (৫৭%) পেয়ে। জামায়াতের রফিকুল ইসলাম খান পান ৯৭ হাজার ৪৬৩ ভোট (৩৪.২%) এবং বিএনপির এম. আকবর আলী ২৪ হাজার ৪৬০ ভোট (৮.৬%) পান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবার আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। আসনের স্থায়ী ভোটব্যাংকের দিকভ্রষ্টি বিজয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



banner close
banner close