মঙ্গলবার

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৫ ফাল্গুন, ১৪৩২

জোত বাতিলের পর খাজনা কেটে আলোচনায় নজরুল

সাভার প্রতিনিধি 

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর, ২০২৫ ১৬:২১

শেয়ার

জোত বাতিলের পর খাজনা কেটে আলোচনায় নজরুল
জোত বাতিলের পর খাজনা আদায়

রাজধানীর অদূরে আমিনবাজার ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ভূমি ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থাপনা ও আইনি ব্যত্যয়ের অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ২০২৩ সালে সহকারী ভূমি কমিশনারের আদেশে ১৫৪৯ নম্বর জোত বাতিল হওয়া সত্ত্বেও ২০২৫ সালের জুন মাসে একই জোতের খাজনা আদায় করেছেন, যা বিদ্যমান ভূমি আইন অনুযায়ী স্পষ্টতই অবৈধ।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভূমি খতিয়ান ও রেকর্ড অনুসারে ১৫৪৯ নম্বর জোতের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে সহকারী ভূমি কমিশনার (এসি ল্যান্ড) একটি মিস কেস (Miscellaneous Case) নিষ্পত্তি করেন। মামলার রায়ে উক্ত জোত বাতিল ঘোষণা করা হয়।

কিন্তু দুই বছর পর, ২০২৫ সালের ২০ জুন, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মাধ্যমে একই জোতের খাজনা অনলাইনে আদায় করা হয়েছে। খাজনা আদায়ের রসিদে স্পষ্টভাবে উক্ত জোত নম্বর ও জমির মালিকদের নাম উল্লেখ রয়েছে।

বাংলাদেশের ভূমি উন্নয়ন কর অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ (Land Development Tax Ordinance, 1976)–এর ৭(১) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ভূমি যদি রাষ্ট্রের অধিকারে আসে অথবা যেকোনোভাবে রেকর্ড থেকে বাদ দেয়া হয়, তবে উক্ত ভূমির জন্য ভূমি উন্নয়ন কর আদায়যোগ্য হইবে না।

এছাড়া ভূমি রেজিস্ট্রেশন ম্যানুয়াল ও খাজনা আদায় নির্দেশিকা অনুযায়ী, বাতিলকৃত বা সরকারের অনুকূলে গৃহীত জোতে কোনো ধরনের খাজনা আদায় করা আইনগতভাবে অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

সেক্ষেত্রে, সহকারী ভূমি কমিশনারের রায় অনুযায়ী ১৫৪৯ নম্বর জোত বাতিল হওয়ার পরও খাজনা আদায় করায় ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও সরকারি রাজস্ব ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

যদি কোনো জোত আদালত বা ভূমি কমিশনারের আদেশে বাতিল হয়, তাহলে সেটি ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থার বাইরে চলে যায়। এই অবস্থায় খাজনা আদায় করলে তা দণ্ডবিধি ৪০৯ ধারা অনুযায়ী ’বিশ্বাসভঙ্গ করে সরকারি অর্থ আদায় অপরাধের মধ্যে পড়ে।

এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, একদিকে সরকার অবৈধ দখল ও জাল রেকর্ড বন্ধে কঠোর হচ্ছে, আর অন্যদিকে ইউনিয়ন অফিসেই হচ্ছে আইনভঙ্গের ঘটনা।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এই ঘটনা শুধু নজরুল ইসলামের একার নয়এতে আরও কারও যোগসাজশ থাকতে পারে। তাই বিষয়টি নিয়ে দ্রুত বিভাগীয় তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসক তানভীর আহমেদ বলেন, আমার হাতে ভূমি উন্নয়ন কর ও জোত বাতিলের কাগজ এসেছে। বিষয়টি খুব দ্রুত তদন্ত করা হবে।



banner close
banner close