সিরাজগঞ্জের শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোয়ার্টার বরাদ্দ ও ভাড়া ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অমান্য করে একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী বদলির পরও হাসপাতালের কোয়ার্টারে অবস্থান করছেন। কেউ কেউ আবার অন্যের নামে বরাদ্দ পাওয়া বাসায় বসবাস করছেন বলে জানা গেছে। এতে সরকারি রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং প্রকৃত কর্মকর্তারা কোয়ার্টার না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে তিন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য পৃথক কোয়ার্টার রয়েছে—চিকিৎসকদের জন্য ১২০০ স্কয়ারফুট, নার্সদের জন্য ১০০০ স্কয়ারফুট এবং তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য ৮০০ স্কয়ারফুট আয়তনের বাসা। এছাড়া মেডিকেল কলেজ অংশে রয়েছে দুটি ক্যাটাগরির ভবন—৮০০ ও ৬০০ স্কয়ারফুট আয়তনের।
অভিযোগ রয়েছে, ইউনানী মেডিকেল ডাক্তার আব্দুর রহিম গত বছরের ডিসেম্বর মাসে সদর হাসপাতালে বদলি হলেও এখনো কোয়ার্টারে বসবাস করছেন। তিনি জানান, সন্তানের লেখাপড়ার সুবিধার্থে পরিচালকের অনুমতি নিয়ে নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করছেন। একইভাবে ফার্মাসিস্ট কামরুল হাসান তারেকও গত ১৮ জুন বদলি হওয়ার পরও কোয়ার্টার ছাড়েননি।
এদিকে নার্সিং সুপারভাইজার সেলিনা খাতুন ১০৫০ স্কয়ারফুট আয়তনের একটি কোয়ার্টারে বসবাস করছেন, যদিও তার নামে সরকারি বরাদ্দপত্র নেই। তিনি দাবি করেন, একই পদমর্যাদার এক সহকর্মীর নামে বরাদ্দ থাকলেও তিনি নিয়মিত ভাড়া প্রদান করছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, নিম্নপদস্থ কর্মচারীর নামে বরাদ্দকৃত বাসায় সিনিয়র কর্মকর্তা বসবাস করায় নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা পড়ছে।
অভিযোগ বিষয়ে সহকারী পরিচালক ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, “বাসা বরাদ্দের বিষয়ে আমি অবহিত নই। সব অনুমতি প্রদান করেন পরিচালক স্যার, আমি এ সংক্রান্ত কমিটিতেও নেই।”
হাসপাতালের পরিচালক ডা. এ.টি.এম. নুরুজ্জামান বলেন, “কোয়ার্টার বরাদ্দে নিয়মের বাইরে কিছু হওয়ার সুযোগ নেই। সহকারী পরিচালক প্রধান থাকা একটি কমিটি বিষয়টি তদারক করে থাকে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আরও পড়ুন:








