চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী চৌরাস্তায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৮টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সোমবার (২০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ করে ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়লে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। শুরুতে দোকান মালিক ও আশপাশের লোকজন পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও দ্রুত আগুন এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তারা জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন।
চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ আলম বলেন, “আমরা খবর পাওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি হোটেল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছেন—
সেলুন ব্যবসায়ী শ্রীকৃষ্ণ চন্দ্র শীল, স্টেশনারি ও কম্পিউটার ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম, কম্পিউটার ব্যবসায়ী মোরসালিন ও রাশেদ হোসেন, ফার্মেসি মালিক মোস্তফা শেখ, মর্দি ব্যবসায়ী সায়েদ গাজী, হোটেল মালিক খোকন রাজা এবং চা দোকানি মহসিন।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, আগুনে তাদের দোকান ও মালামালসহ প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সফিকুর রহমান বলেন, “এই আগুনে ব্যবসায়ীদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। অনেকের জীবিকা বন্ধ হয়ে গেছে।”
আরেকজন স্থানীয় মো. সোহেল বলেন, “সরকারি সহায়তা না পেলে এই ব্যবসায়ীরা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা দরকার।”
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী মো. আল-আমিন ও কার্য সহকারী নাছির আহমদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বাগাদী চৌরাস্তায় এই অগ্নিকাণ্ডে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অর্ধকোটি টাকারও বেশি হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত শেষে আগুনের উৎস ও ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানা যাবে।
আরও পড়ুন:








