মঙ্গলবার

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৫ ফাল্গুন, ১৪৩২

অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে কক্সবাজার রেলস্টেশনের বিভিন্ন স্থাপনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর, ২০২৫ ১৩:০৯

আপডেট: ২০ অক্টোবর, ২০২৫ ১৩:১৭

শেয়ার

অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে কক্সবাজার রেলস্টেশনের বিভিন্ন স্থাপনা
ছবি: কক্সবাজার রেলস্টেশন

অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে দেশের প্রথম আন্তর্জাতিকমানের কক্সবাজার রেলস্টেশনের বিভিন্ন স্থাপনা। ইজারা বা বরাদ্দ না দেয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে বিদেশিদের হাতে চলে যেতে পারে পর্যটন শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক মানের এই রেলস্টেশনটি।

এই রেলস্টেশন নির্মাণের দুই বছর পর এখন এর পরিচালনায় অপারগতা প্রকাশ করছে খোদ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এমনকি দেশি একক কোনো প্রতিষ্ঠানের ওপরও ভরসা করতে রাজি নয় রেল মন্ত্রণালয়। এ পরিস্থিতিতে বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের হাতে কক্সবাজার রেলস্টেশনের পরিচালনার ভার তুলে দেয়া হবে। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি চলছে।

২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন উদ্বোধন হয়। ওই বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। প্রায় দুই বছর হয়ে গেলেও স্টেশনের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হয়নি। বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ‘পর্যটক’ও ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’নামের দুটি ট্রেন চলাচল করছে। স্টেশন পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে শুধু ইউটিলিটি খাতেই প্রতি মাসে ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা খরচ হতে পারে বলে হিসাব করেছে রেলওয়ে। রেলওয়ে সূত্র বলছে, এত ব্যয়ভার তাদের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। তাই স্টেশনটি তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পরিচালনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিকমানের আধুনিক নকশায় নির্মিত ছয়তলা এই স্টেশন ভবনটি বাইরে থেকে আলিশান কোনো স্থাপনার মতোই দেখায়। কাচঘেরা স্থাপনা এবং আইকনিক ঢংয়ের ছাদ এটিকে আলাদা বৈশিষ্ট্য দিয়েছে। ২১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই স্টেশন ভবনের প্রতিটি তলায় রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন সুবিধা ও বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা; কিন্তু এসব সুবিধা এখনো শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। বাস্তবে অবকাঠামো থাকলেও তা ব্যবহার উপযোগী নয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে দরপত্র আহ্বানের জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মধ্যে চিঠি চালাচালি চলছে। এখন পর্যন্ত রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ে তিনবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে রেলওয়ে দরপত্র আহ্বান করবে। এই দরপত্রে পাঁচতারকা হোটেল পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে—এমন প্রতিষ্ঠানকে অংশগ্রহণ করতে বলা হবে। দরপত্রটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের হবে। দেশীয় প্রতিষ্ঠান চাইলে বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে জয়েন্ট ভেঞ্চারে অংশ নিতে পারবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি, দক্ষ ও অভিজ্ঞ বিদেশি প্রতিষ্ঠান কক্সবাজার রেলস্টেশন পরিচালনার দায়িত্ব নিক। তবে দেশীয় প্রতিষ্ঠান যদি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জেভি (জয়েন্ট ভেঞ্চার) করতে চায়, সে সুযোগ থাকবে। সেক্ষেত্রে দেশি প্রতিষ্ঠানের পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা না থাকলেও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি নিচ্ছি। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেলে তা প্রকাশ করা হবে।’

রেল স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, হাতে গোনা কয়েকজন লোক ছাড়া স্টেশনটি ফাঁকা। অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশে গা ছমছমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেখানে নেই কোনো টিকিট কাউন্টার বা দিকনির্দেশনা; চলন্ত সিঁড়িগুলো বন্ধ অবস্থায় রয়েছে; কোনোটির সামনে লোহার ব্যারিকেড, আবার কোনোটির সামনে আবর্জনার বিন দিয়ে পথ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ট্রেন ছাড়ার ২৫-৩০ মিনিট আগে প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়। কেবল টিকিটধারীরাই প্রবেশ করতে পারেন। পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই। যাত্রীদের ব্যবহারের জন্য একটি টয়লেট খোলা থাকলেও তা ব্যবহার অনুপযোগী ছিল।



banner close
banner close