মঙ্গলবার

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৫ ফাল্গুন, ১৪৩২

জালিয়াতি করে শ্রেষ্ঠ কলেজ অধ্যক্ষের পদক পেয়েছিলেন তিন 'আওয়ামী' নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর, ২০২৫ ১৩:৪৬

আপডেট: ১৯ অক্টোবর, ২০২৫ ১৪:৪৯

শেয়ার

জালিয়াতি করে শ্রেষ্ঠ কলেজ অধ্যক্ষের পদক পেয়েছিলেন তিন 'আওয়ামী' নেতা
ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী তিন নেতার বিরুদ্ধে সরকারি কলেজে অবৈধভাবে চাকরি গ্রহণ, জাল সনদ ব্যবহার, অবৈধ পদোন্নতি ও দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে। অভিযুক্তরা হলো দুর্গাপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ফারুক আহমেদ তালুকদার, একই কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও বর্তমান সহকারী অধ্যাপক আব্দুল আজিজ, এবং আলহাজ্ব মাফিজ উদ্দিন তালুকদার কলেজের অধ্যক্ষ মোছা. কামরুন্নাহার ফারুক।

২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ‘সুসং দুর্গাপুর দুর্নীতি ও নিপীড়ন বিরোধী ভার্সিটিয়ান মঞ্চ’ নামের একটি সংগঠনের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন তদন্ত শুরু করে। তদন্তে উঠে আসে, ফারুক আহমেদ ২০০৩ সালে কম্পিউটার বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে অবৈধভাবে নিয়োগ পান এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও অধ্যক্ষ পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

আলাদা একাধিক তদন্তে প্রমাণিত হয় যে, তার অভিজ্ঞতা, যোগ্যতা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া ছিলো অনিয়মপূর্ণ। এমনকি জাতীয়করণেও তার অযোগ্যতা চিহ্নিত হয়েছিল। একইভাবে আব্দুল আজিজ ও মোছা. কামরুন্নাহার ফারুকের বিরুদ্ধেও জাল সনদ, অযোগ্যতা ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসনের তদন্ত রিপোর্টেও এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এতে বলা হয়, অভিযুক্তরা বৈধ প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং তদন্তে হুমকির আশ্রয় নিয়েছেন। কলেজের অডিট রিপোর্টে ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় শিক্ষক আসাদুজ্জামানকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে এখনো তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও শিক্ষামন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পৃথক তদন্ত চলমান রয়েছে। নেত্রকোনা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু তাহের এই তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন।

স্থানীয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে এই পরিস্থিতি নিয়ে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। তাদের দাবি, অবিলম্বে অভিযুক্তদের বরখাস্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।



banner close
banner close