মঙ্গলবার

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৫ ফাল্গুন, ১৪৩২

সিংগাইরে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা, গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর, ২০২৫ ১৩:০১

শেয়ার

সিংগাইরে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা, গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন
ছবি: বাংলা এডিশন

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় এক নারীকে ধর্ষণ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মীর রবিউলকে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।

শনিবার সকাল ১১টার দিকে তালেবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে স্থানীয় বিএনপি নেতা আবুল বাশারের সভাপতিত্বে আয়োজিত এক ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে অংশ নেন পাঁচ শতাধিক এলাকাবাসী।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, তালেবপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য মীর রবিউল বিয়ের প্রলোভনে এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ ও তিন লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

তারা জানান, ভুক্তভোগী নারী সিংগাইর থানায় মামলা করলেও এখনো অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ফলে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে মানববন্ধনের আয়োজন করেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন। মানববন্ধন থেকে তারা এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে ভুক্তভোগী নারীর স্বামী মারা যান। এরপর প্রায় চার বছর ধরে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন মীর রবিউল। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তিনি ওই নারীর কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নেন এবং একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।

গত ৬ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে এলাকাবাসী মীর রবিউলকে ওই নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় হাতে-নাতে আটক করে। পরে তার ছেলে শামীম ও রফিকসহ কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি পরদিন বিয়ের আশ্বাসে রবিউলকে ছাড়িয়ে নেন। তবে পরদিন তিনি বিয়ে না করে পালিয়ে যান।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, মীর রবিউল আমাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করেছে এবং অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ৭ অক্টোবর সালিশের মাধ্যমে বিচার করার কথা বললেও তারা হাজির হননি। আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং সঠিক বিচার চাই।

অভিযুক্ত মীর রবিউলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

তালেবপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোছা. সাদিয়া রহমান বলেন, ঘটনার বিষয়ে মৌখিকভাবে শুনেছি। তবে থানায় অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জে. ও. এম. তৌফিক আজম বলেন, ঘটনার বিষয়ে থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত ইউপি সদস্যকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।



banner close
banner close