সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার মোহনপুরে শতবর্ষী কেএম ইনস্টিটিউশনের জমি দখল নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে থাকা ওই জমি থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ জারি কারার প্রায় তিন মাস পার হয়ে গেলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
১৯১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ের নামে জমিদার ক্ষিতি মোহন লাহিড়ী ১৩ বিঘা জমি দান করেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু হান্নান ২০২৩ সালের ২১ জুন অবৈধ দখলকারীদের উচ্ছেদের আবেদন জানান জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে।
দীর্ঘসূত্রিতার পর ২০২৫ সালের ২২ মে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) লিটুস লরেন্স চিরানের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফজলে রাব্বিকে উচ্ছেদ অভিযানের দায়িত্ব দেন। অধ্যাদেশ নম্বর ১৯৭০ এর ৫(২) ও ৬ ধারার ক্ষমতাবলে উচ্ছেদ কার্য সম্পন্নের নির্দেশও দেওয়া হয়।
তবে গত ১৪ জুলাই ম্যাজিস্ট্রেট ফজলে রাব্বি শ্রমিক ও যন্ত্রপাতি নিয়ে অভিযানস্থলে গিয়েও উচ্ছেদ না করেই ফিরে আসেন। এ বিষয়ে তিনি জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সেদিন অন্য একটি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির আশঙ্কা ছিল। তাই উচ্ছেদ কার্য স্থগিত করা হয়।” তিনি আরও বলেন, “উচ্ছেদে কোনো আইনগত বাধা নেই। জেলা প্রশাসকের নতুন নির্দেশনা পেলেই অভিযান পরিচালনা করা হবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দাবি করেছেন, প্রভাবশালী দখলকারীদের চাপের কারণে ইউএনও উচ্ছেদ অভিযান থেকে ম্যাজিস্ট্রেটকে বিরত থাকতে বলেন। এদিকে স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রাথমিক নোটিশে কিছু দখলদার স্থাপনা সরালেও পরে তারা পুনরায় অবৈধভাবে দোকান ও স-মিল নির্মাণ করেছেন। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জেলা প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, খুব শিগগিরই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে পুনরায় অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:








