বুধবার

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৬ ফাল্গুন, ১৪৩২

যশোরে ফের ভৈরবপাড় দখলমুক্ত অভিযান

যশোর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর, ২০২৫ ২২:৪১

শেয়ার

যশোরে ফের ভৈরবপাড় দখলমুক্ত অভিযান
ছবি: বাংলা এডিশন

যশোর শহরের প্রাণভোমরা ভৈরব নদীর পাড় দখলমুক্ত করতে ফের শুরু হয়েছে জোরালো অভিযান। জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান বিকেল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত ইয়াসমিনের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অভিযানে অংশ নেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জীসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। অভিযানের শুরুতেই ভৈরব হোটেলের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়। একই সঙ্গে ব্রিজের দুই পাশের ফুটপাত ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় গড়ে ওঠা ক্ষুদ্র দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হয়।

পরে দলটি ভৈরব হোটেল সংলগ্ন নদীর পাড় এলাকায় গিয়ে দেখতে পায়, হোটেল ও আশপাশের বেশ কিছু হাসপাতাল সরকারি জায়গা দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছে। প্রভাবশালীদের কেউ কেউ টং দোকান বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রেখেছেন নদীর তীর।

অভিযানের অংশ হিসেবে ভৈরব চত্ত্বরের আশপাশের ফুটপাতের দোকানগুলোও উচ্ছেদ করা হয়। বিপরীত দিকে রাজধানী হোটেলের সামনের অংশ ও জনি হোটেলের বর্ধিত অংশ ভেঙে ফেলা হয়। সরকারি জায়গায় নির্মিত জনি হোটেলের সিঁড়ি অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। এমনকি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে পরিচালিত ফরমালিনমুক্ত সবজি বিক্রির স্টলটিও ভেঙে দেওয়া হয়।

উচ্ছেদ অভিযানের সময় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়াই দোকান ভেঙে ফেলেছে। এতে তাদের লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। পাশাপাশি পুনর্বাসনের দাবি জানান।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, একাধিকবার নোটিশ দেওয়ার পরও কেউ জায়গা ছাড়েনি। বাধ্য হয়ে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড যৌথভাবে অভিযান শুরু করেছে। নদীর সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রথম ধাপে কাটাতার দিয়ে নদীর জায়গা ঘিরে ফেলা হবে এবং পরবর্তী ধাপে গাছ লাগানো ও নাগরিকদের বিনোদনের জন্য পার্ক তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী সপ্তাহে ভৈরব চত্ত্বরের বিপরীত পাশের দখলকৃত অংশগুলো সার্ভে করে উচ্ছেদ করা হবে বলেও জানান তিনি।

অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা জানান, এবার কোনো দখলদারকে ছাড় দেওয়া হবে না। নদীর জায়গা সবার, তাই স্বেচ্ছায় দখলমুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।



banner close
banner close