সিঙ্গেল চেসিসের ওপর অবৈধভাবে স্লিপার-দোতলা বাস নির্মাণ করে সড়কে বেপরোয়া ও নিয়ন্ত্রনহীন গতির কারণে চট্টগ্রাম-কুমিল্লা মহাসড়কে সেন্টমার্টিন পরিবহনের দূর্ঘটনার ঘটনায় ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে দূর্ঘটনায় আহত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরানের পক্ষে ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান এ নোটিশ প্রেরণ করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এর চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির সভাপতি এবং সেন্টমার্টিন পরিবহনের মালিক মোঃ মনোয়ার হোসেনকে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, আমার মক্কেল সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী হিসেবে আইন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। তিনি গত ১৯ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১১ টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে মোঃ মনোয়ার হোসেনের মালিকানাধীন সেন্টমার্টিন পরিবহনের ‘এফ৩) নং সিটে রওয়ানা করেন। পরিবহনটির রেজিষ্ট্রেশন নং- ঢাকা মেট্রো-ব-১২-২৮৮১।
বাসটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়ার পর থেকে সংশ্লিষ্ট চালক সম্পূর্ন অনিয়ন্ত্রিত ও স্বেচ্ছাধীনভাবে বাসটি চালাতে থাকেন, যাতে আমার মক্কেল সহ বাসে থাকা যাত্রীরা অনেকবার তাকে সতর্ক করেন। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। বেপরোয়াভাবে বাসটি ওভারটেকিং করে চালানোর কারনে রাত অনুমান ২ টা ৫ মিনিটের সময় বাসটি প্রায় ১৮০ ডিগ্রী ঘুরে বাম পাশে (বাসের) আঁচড়ে পড়ে বিকট শব্দ হয় এবং মুহূর্তে সমগ্র বাসটি অন্ধকারে আছন্ন হয় এবং এক ভয়ানক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে যাত্রীর নানাভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে আত্মচিৎকার করতে থাকে। কেউ কেউ মোবাইলের আলোতে বাসের কিছু অংশ ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। আমার মক্কেলও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন।আমার মক্কেলের শরীরে আভ্যন্তরীন আঘাতের কারণে তার জীবন এখনও ঝুঁকিপূর্ণ।
নিয়মিত ঘুমের ওষুধ সেবন সত্ত্বেও তিনি এখনও স্বাভাবিকভাবে রাতে ঘুমাতে পারেন না। এ অবস্থায় আমার মক্কেলের পরিবার তার শারীরিক উন্নতির জন্য এবং উন্নত চিকিৎসার লক্ষ্যে ভারতের একটি হাসপাতালে এ্যাপয়েন্টমেন্ট করিয়েছেন এবং ভিসা পাওয়ার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এতে করে আমার মক্কেলের তার আইন পেশায় ফিরে আসা নিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা তৈরী হয়েছে। যার ফলে আমার মক্কেল শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তিনি ২৬ দিন যাবত আইন পেশা থেকে দূরে রয়েছেন এবং পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার সময়ও অনিশ্চিত। এতে এ পর্যন্ত তার প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও চিকিৎসা বাবদ আমার মক্কেলের প্রায় ১০ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে। সুতরাং আমার মোয়াক্কেলের উক্ত ক্ষতিপূরণ সহ যাবতীয় ক্ষতিপূরণ মোঃ মনোয়ার হোসেন প্রদান করতে বাধ্য।’
নোটিশ পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে নোটিশদাতার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে তার শারীরিক, মানসিক ও পেশাগত ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫০ লক্ষ টাকা প্রদান করতে।হবে। অন্যাথায়।হাইকোর্ট বিভাগে রিট দায়ের করাসহ অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:








