বৃহস্পতিবার

৯ এপ্রিল, ২০২৬ ২৬ চৈত্র, ১৪৩২

চট্টগ্রামে বাড়ছে চুরি

মিরসরাই, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর, ২০২৫ ১৪:১১

আপডেট: ১৪ অক্টোবর, ২০২৫ ১৪:২৩

শেয়ার

চট্টগ্রামে বাড়ছে চুরি
ছবি: চট্টগ্রামের মিরসরাই থানা

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে গত কয়েক মাস ধরে একের পর এক চুরির ঘটনায় দিশেহারা হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন পরিষদ, ঘরবাড়ি, মোটরসাইকেল এমনকি গরুও রেহাই পাচ্ছে না সংঘবদ্ধ চোরচক্রের হাত থেকে। কোথাও কোথাও ঘটছে ডাকাতির মতো ঘটনাও, যা আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে পুরো উপজেলায়।

সর্বশেষ সোমবার (১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে একাধিক চুরির ঘটনা ঘটে। মিরসরাই থানাধীন বড় কমলদহ ডাকঘর সংলগ্ন বুড়া হুজুরের মাজারের পাশে অবস্থিত এন.এস কম্পিউটার অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের ভেন্টিলেটর ভেঙে পাঁচটি ল্যাপটপ, প্রায় ৬০ হাজার টাকা এবং ওয়াইফাই সরঞ্জাম চুরি করে নিয়ে যায় চোরের দল। একই রাতে খৈয়াছড়া ইউনিয়নের দুয়ারু মিঝি বাড়ি থেকে একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। এর আগের রাতে মিরসরাই পৌর সদরে এনজিও প্রতিষ্ঠান ইপসা কার্যালয় থেকে একসাথে তিনটি মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে। এসব ঘটনার কিছু অংশ সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়লেও এখন পর্যন্ত কোনো চোরকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

এছাড়া জোরারগঞ্জ থানাধীন ইছাখালী ইউনিয়নে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলমের দুইটি, জসিম উদ্দিনের একটি এবং রেজাউল করিমের দুইটি মোট পাঁচটি গরু একই বাড়ির আলাদা গোয়ালঘর থেকে চুরি হয়েছে। অন্যদিকে বারইয়ারহাট মধ্যম জামালপুর এলাকার জালাল আহমদের বাড়ি থেকে একটি টিউবওয়েল চুরির খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

চুরির ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। অনেকেই আইনি ঝামেলার আশঙ্কায় থানায় অভিযোগ না করে নীরবে ক্ষতি সহ্য করছেন।

স্থানীয়রা দাবি করে বলেন, সম্প্রতি এই চুরির ধারা রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মিরসরাইয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়বে।

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আবদুল হালিম বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তবে অনেক সময় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ না দেয়ায় ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হয়।

অন্যদিকে মিরসরাই থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, শুধু মিরসরাই নয়, চুরির ঘটনা সারাদেশেই বেড়েছে। জনসংখ্যার তুলনায় পুলিশের সংখ্যা অপ্রতুল, ফলে সারারাত টহল দিয়েও পুরো এলাকা কাভার করা কষ্টসাধ্য। স্থানীয় তরুণ ও যুব সমাজ এগিয়ে এলে পালাক্রমে পাহারা দিয়ে চুরি রোধ সম্ভব। সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো—জনসচেতনতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা।



banner close
banner close