রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পূর্ব ডারারপাড় গ্রামে গত ২২শে আগষ্ট এরশাদুল হকের ছেলে রিপন মিয়া(১৭) নিখোঁজ হয়। সেদিন দুপুরের দিকে রংপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী ফিহা রিপন মিয়াকে ফোন করে। রিপন ফিহার সাথে দেখা করার উদ্দেশ্যে মায়ের কাছে থেকে দুইশত টাকা নিয়ে বের হয়। ফিহা এবং রিপন মিয়ার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিলো।
২২শে আগষ্ট থেকে ২৪শে আগষ্ট পর্যন্ত রিপন নিখোঁজ ছিলো। রিপন মিয়ার পরিবার তাদের আত্মীয়স্বজন এবং গ্রামের পাড়াপ্রতিবেশিকে ফোন করে কিন্তু কোথাও ছেলের সন্ধান পান না। ২৪শে আগষ্ট দুপুরের দিকে রিপন মিয়ার ফোন থেকে তার বাবার নাম্বারে কল আসে এবং তার ছেলের (রিপনের) লাশ পাওয়া গেছে বলে জানায়। মহিপুরের মিলনবাজারের চর থেকে রিপন মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রিপনের মরদেহে বিভিন্ন ধারনের আঘাত এবং জখমের দাগ স্পষ্ট ছিলো। শরীরে অসংখ্য ছুরির আঘাত৷ হাতের রগ এবং গলার রগ কাটা সেই সাথে মুখে এসিড দিয়ে পুরো মুখ ঝলসানো। এমনকি হাত এবং পায়ের নখ উঠানো,পেটের দুই পাশে ছুরি ঢুকিয়ে দেয়ার চিহ্ন স্পষ্ট ছিলো।
এঘটনায় রিপনের বাবা প্রাথমিক অবস্থায় হারাগাছ থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে হারাগাছ পুলিশ অস্বীকৃতি জানায় এবং লালমনিরহাট থানায় যেতে বলে।
নিহত রিপন মিয়ার বাবা এরশাদুল হক লালমনিরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ করতে গেলে প্রথমত তারাও বিভিন্ন অযুহাত দেখায়। এমনকি জিডির কপি দিতেও বিভিন্নধারনের টালবাহানা করতে থাকে লালমনিরহাট পুলিশ। পরে রিপন মিয়ার বাবাকে জানায় যে আপনার ছেলে আত্মহত্যা করেছে কিন্তু রিপন মিয়ার বাবার প্রশ্ন হল," তার ছেলে আত্মহত্যা করলে বাসা থেকে এতদূরে এসে কেন আত্মহত্যা করবে? আর আত্মহত্যা করলে তার মুখ এসিড দিয়ে বিকৃত করা থাকবে কেন? হাত পায়ের নখ উঠানো কেন?
তখন লালমনিরহাট পুলিশ জানায় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বের হতে ৮মাস সময় লাগবে। পরবর্তীতে তারা যোগাযোগ করবে বলে বিদায় করে নিহত রিপন মিয়ার বাবাকে। ছেলে নিহতের দুই (২) মাস পেরিয়ে গেলেও কোন প্রকার আইনি সহায়তা পান নি ভুক্তভোগীর পরিবার, এ নিয়ে গতকাল রংপুর প্রেস ক্লাবের সামনে হত্যাকারীদের বিচারের দাবী নিয়ে রিপন মিয়ার স্বজনেরা মানববন্ধন করলে বিভিন্ন প্রকার হুমকি ধামকি এবং প্রাননাশের ভয় দেখায় নিহত রিপন মিয়ার বাবাকে।
আরও পড়ুন:








