প্রবাসী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার আনোয়ারপুর গ্রামের পুতুল নামে এক নারীকে অবৈধভাবে স্বর্ণ চোরাচালান মামলায় গ্রেপ্তার ও তার বাড়িঘর ভাঙচুরের প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা এবং চুয়াডাঙ্গা সদরে পৃথক দুটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে বক্তারা পুতুলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ উল্লেখ করে অবিলম্বে তার মুক্তি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরীফের বিচারের দাবি জানান।
আলমডাঙ্গা গোবিন্দপুর নতুন বাসস্ট্যান্ডে প্রতিবাদ
বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে শুক্রবার সন্ধ্যায় আলমডাঙ্গা গোবিন্দপুর নতুন বাসস্ট্যান্ডে প্রথম মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পুতুল একজন শিক্ষিকা ও শিল্পী এবং তিনি বিএনপি পরিবারেরই একজন। কিন্তু তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনের একটি প্রতিবেদনে সাক্ষাৎকার দেওয়ার পরই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এমনকি এই ঘটনার জেরে তাঁর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলেও মানববন্ধনে অভিযোগ করেন বক্তারা। এ সময় মানববন্ধনে অংশনেন রাজনীতিবিদসহ এলাকার সর্বস্থরের জনগণ।
চুয়াডাঙ্গা নতুন বাজারে মানববন্ধনে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংহতি
একই দিনে সন্ধ্যা ৬টায় চুয়াডাঙ্গা নতুন বাজারে আরেকটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা সংহতি প্রকাশ করেন। তাঁরা শিল্পী পুতুলের গ্রেপ্তারের ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ক্ষমতার অপব্যবহার বলে আখ্যা দেন।
বক্তারা অবিলম্বে পুতুলের মুক্তি দাবি করে বলেন, একটি সংবাদ প্রকাশের জেরে শিক্ষক ও শিল্পীর ওপর এমন নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তাঁরা এই ঘটনাকে গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত বলেও মন্তব্য করেন।
চুয়াডাঙ্গা নতুন বাজারের মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুল খালেক, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আরঙ্গজেব বেল্টু, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাবেক যুব বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মমিনুল ইসলামসহ আরও অনেকে।
সম্প্রতিক অনুসন্ধানে সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইান তার প্রতিবেদনে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান ও তার ভাই টরিকের চাঁদাবাজি ও এলাকায় করা ভয়ংকর সব অপকর্মের তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে পুতুল অভিযোগ করেছেন, তাঁকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তাঁর সম্ভ্রম নষ্ট করেছেন।
এ ছাড়া, ওই নারী অভিযোগ করেন, এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে পুলিশ ও বিএনপির উচ্চপদস্থ বিভিন্ন নেতাদের কাছেও গিয়েও এ ঘটনার কোনো প্রতিকার পাননি।
এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর দর্শনা থেকে আসমা খাতুন নামে এক নারীকে তিনটি স্বর্ণের বারসহ আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে বিজিবি। অভিযোগ উঠেছে, ওই ঘটনায় পুলিশের এজাহারে পুতুলের নাম না থাকলেও টরিকের অদৃশ্য শক্তির মাধ্যমে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। এমনকি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ওই মামলায় পুতুলকে গ্রেপ্তারও দেখানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:








