বুধবার

২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮ ভাদ্র, ১৪৩৩

কুষ্টিয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১৮ জুয়াড়ির কারাদণ্ড

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৭:২২

শেয়ার

কুষ্টিয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১৮ জুয়াড়ির কারাদণ্ড
ছবি: বাংলা এডিশন

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় জুয়ার আসর থেকে ১৮ জুয়াড়িকে আটক করেছে ৪৭ বিজিবি। বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলার দক্ষিন রেলগেট এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ভবন থেকে শনিবার দিবাগত রাতে ৫ ঘন্টার অভিযানে জুয়া খেলারত অবস্থায় তাদের আটক করে কারাদণ্ড দেয়া হয়।

তাদের মধ্যে ১৪ জনকে এক মাস ও চারজনকে চার মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। সেখান থেকে চার লাখ ৯ হাজার ৬৫৭ টাকা ও চারটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। রবিবার দুপুরে ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন।

আটক সাজাপ্রাপ্ত জুয়াড়িরা হলেন- মিজানুর রহমান (৫২), রাহুল (৩০), আসাদুজ্জামান (৪৫), বিপুল (৩৮), জীবন (৩১), শাহেদ হাসান (৩১), ছোটন (২১), টিপু সুলতান (২৮), জুয়েল রানা (৩৩), আলী হিম (৩৮), আশরাফুল ইসলাম (৩৫), রাজা (৫২), বাস্তু (৫০), হাসান বিশ্বাস (৫০), বাবু হোসেন (৩৮), জিল্লুর রহমান (৪২), রনি (৩৫) ও নান্টু (৩৫)।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জুয়ার আসরের তথ্য পাওয়া যায়। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার দিবাগত রাতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উক্ত অভিযানে নেতৃত্ব প্রদান করেন ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম।

অভিযানে বিজিবি এবং পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় ভেড়ামারা দক্ষিন রেল গেইট একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে জুয়ার আসর হতে ১৮ জন জুয়ারীসহ নগদ ৪ লাখ ৯ হাজার ৬৫০ টাকা এবং ৪টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। যার আনুমানিক সিজার মূল্য ১১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫৭ টাকা। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ১৪ জনকে এক মাস করে ও চারজনকে চার মাস করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক আরও জানিয়েছেন, উক্ত এলাকার জনসাধারণের নিকট হতে জানা যায়, ওই এলাকায় প্রায় ছয় মাস যাবত জুয়া এবং মাদকদ্রব্য সেবনের মতো কার্যকলাপ পরিচালিত হতো। মাদক সেবনের কারণে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। অন্যদিকে, জুয়ারীদের কারণে বহু পরিবার আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও, এই ধরনের কার্যকলাপ সামগ্রিকভাবে এলাকার সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়কে ত্বরান্বিত করছে।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই চরম অবনতির মুখে, সম্প্রতি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) একটি সফল অভিযান পরিচালনা করে। বিজিবির এই অভিযানের পর এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতা ও দুশ্চিন্তায় থাকা এলাকার জনগণ গভীর স্বস্তি প্রকাশ করেছে। আইনবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে বিজিবির এই সাহসী ও কঠোর অবস্থানকে সাধারণ মানুষ আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে।