বাংদেশের ইতিহাসে অনন্য প্রতিরোধের নাম চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান। স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের অন্যায়, অত্যাচার আর অবিচারের বিরুদ্ধে সবকিছু উজার করে সোচ্চার হয়েছিলেন ছাত্রজনতা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরশাসক স্বৈরাচারী হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে কুষ্টিয়া সহ সারা দেশব্যাপী চলছিলো অসহযোগ আন্দোলন৷ তখন কুষ্টিয়া শহর রক্তাক্তের জনপদ হয়ে ওঠে। সকাল থেকে শুরু হয় ছাত্রজনতার বিক্ষোভ মিছিল। এতে বাধা হয়ে দাঁড়ায় পুলিশ। আন্দোলকারীদের লক্ষ্য করে ছোড়েন গুলি ও টিয়ারগ্যাস।
এদিন কুষ্টিয়ায় পুলিশের গুলিতে জীবন হারান ৬ জন। এছাড়াও পুলিশের টিয়ারশেলে একজন ও যুবলীগের হামলায় আরেকজনের মৃত্যু হয়। বছর পেরিয়ে গেলেও থামেনি শহীদ পরিবারের কান্না। শহীদদের স্মৃতি আগলে রেখে দিন পার করছেন তারা। তাদের স্মৃতি মনে রেখে কান্নায় চোখের জলে বুক ভাসান নিত্যদিন। এক বছরে আশানুরূপ বিচার না হওয়ায় হতাশ তারা। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, বিচার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শোকে বিহ্বল শহীদ পরিবারের সদস্যরা। একইসাথে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, সম্মানজনক পুনর্বাসন ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিতের দাবিও জানিয়েছেন তারা৷
গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ার আটজন শহীদরা হলেন- আব্দুল্লাহ, ইউসুফ, ওসামা, বাবলু ফারাজী, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, সবুজ আলী ও মাহিম হোসেন। এছাড়াও গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ার আরও সাত সন্তান জীবন দিয়েছেন৷ তারা হলেন- ইয়ামিন, আলমগীর শেখ, মারুফ হোসেন, জামাল উদ্দিন শেখ, আব্দুস সালাম, সেলিম মন্ডল, জুবায়ের। তারা কুষ্টিয়ার বাসিন্দা। ঢাকা, সাভার, নারায়ণগঞ্জ সহ বিভিন্ন জায়গায় কর্মরত ও পড়াশোনা করতেন।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও নিহতের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলা গুলো আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি। তদন্ত কাজের অগ্রগতি ভালো। এবিষয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার ও রেঞ্জ থেকে একটা কমিটি আছে। তাদের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে পুলিশ।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবার গুলোকে সরকারের পক্ষ থেকে আমরা সর্বোচ্চ সুযোগসুবিধা দিয়ে সহযোগিতা করে আসছি। প্রত্যেক শহীদ পরিবারকে ১০ লাখ টাকার করে সঞ্চয়পত্রের ব্যাংক চেক দেওয়া হয়েছে। জুলাই ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এককালীন দুই লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের সুযোগসুবিধা দেয়া হয়েছে। কেউ কোনো সাহায্য সহযোগিতার আবেদন করলে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছি। এছাড়াও প্রত্যেক শহীদ পরিবারকে পুনর্বাসন, আবাসন সুবিধা ও চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
২০২৪ সালের ৫ আগাস্ট গণঅভ্যুত্থান চলাকালে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের সামনে নূর টেইলার্স গলির ভেতরে আন্দোলকারী ইউসুফকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তার কপালে ও শরীরের বিভিন্নস্থানে গুলিবিদ্ধ হয়। তিনি কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে চাকরি করতেন। ইউসুফ কুষ্টিয়া পৌরসভার চর থানা পাড়ার শহীদ আবুল কাশেম সড়কের মৃত এদাত আলী শেখের ছেলে। এ ঘটনার মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিসহ মোট ৭৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও ২০-৩০ জনকে।
এ মামলার বাদী ও শহীদ ইউসুফের মেয়ে সীমা খাতুন বলেন, ৫ আগস্ট সকালে আমাদের বাসার অলিগলিতে এলোপাতাড়িভাবে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও ছররা গুলি করে। এতে সকাল ৯টায় ছররা গুলিতে আহত হয় আমার বাবা। পরে আহত অবস্থায় সে আন্দোলনে যায়। এসময় ফায়ার সার্ভিস অফিসের সামনের গলিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন। আমার বাবার কপালে ও শরীরের বিভিন্নস্থানে গুলিবিদ্ধ হয়েছিল। আওয়ামী লীগের নেতাদের নির্দেশ পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে। এসআই আলী ও এসআই মুস্তাফিজ গুলি করে প্রকাশ্যে হত্যা করেছে। পরে পুলিশের নামে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ নেয়নি। এরপর হত্যার ১০ দিন পরে মামলা করা হয়৷ এ মামলায় অনেক নির্দোষীদের নাম ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে৷ সুবিধাবাদীরা এ মামলা নিয়ে স্বার্থ হাসিল করেছে। তারা তাদের মন মতো মামলা সাজিয়েছে, নাম ঢুকিয়েছে। এরপর কয়েকজনের নাম মামলা থেকে বাদ দেয়ার জন্য তারা বানিজ্য করেছে। এজন্য বিভিন্ন সময় তারা আমার সই নিয়েছে। এ মামলা নিয়ে তারা ব্যবসা করেছে, টাকা কামিয়েছে। নির্দোষ অনেক মানুষের নাম ঢুকিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়া হয়েছে। এই এক বছরে আমরা হত্যার বিচার পায়নি। হত্যার ঘটনায় সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দেওয়া হোক। শহীদ পরিবারে চাকরি দেয়া হোক, পুনর্বাসন করা হোক।
গত বছরের ৫ আগস্ট বিকালে অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন মোহাম্মদ ওসামা। তিনি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার শিমুলিয়া দহকুলা গ্রামের জয়নুল আবেদীনের ছেলে। ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার লাশ দাফন করা হয়। ওসামা ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের আলামপুর ইউনিয়নের সংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ওসামার বাবা জয়নুল আবেদীন বলেন, আন্দোলন চলাকালে থানার মোড় এলাকায় বিকাল তিনটার দিকে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় ওসামা। ওসামার ঘাড়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছিল৷ এ ঘটনায় আমরা মামলা করিনি। সে আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়েছে। আমরা আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম। আল্লাহ যেন আমার ছেলেকে জান্নাতবাসী করে, এই একটাই চাওয়া। এসপি, ম্যাজিস্ট্রেটরা বাসায় এসে আপোষ করে নিয়ে গেছে, নিষ্পত্তি করার জন্য কাগজপত্রে সই নিয়ে গেছেন।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে বিকেল ৩টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের থানার মোড় এলাকায় বাবলু ফারাজীকে (৫৮) গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি শহরের বিভিন্ন জায়গায় ফেরি করে গামছা, বিছানার চাদর ও লুঙ্গি বিক্রি করতেন। বাবলু ফারাজী কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর গ্রামের মৃত নওশের আলীর ছেলে। এ ঘটনায় গত ১৯ আগস্ট নিহত বাবলু ফারাজীর ছেলে সুজন মাহমুদ বাদী হয়ে কুষ্টিয়া আদালতে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই।
ছেলে সুজন মাহমুদ বলেন, ৫ আগস্ট আমার আব্বা আন্দোলন করছিল। এসময় কুষ্টিয়া শহরের মিশন স্কুলের বিপরীতে তুলা পট্টির গলিতে পুলিশের গুলিতে আমার বাবা শহীদ হন। বিকাল ৩টার পরে পুলিশের গুলি বাবার মাথার ডানদিকে গুলি ঢুকে বামদিম দিয়ে বেরিয়ে যায়। প্রথমে পুলিশের নামে থানা পুলিশ মামলা নেয় না। পরে আদালতে মামলা করেছি। পিবিআই তদন্ত করছে। দোষী পুলিশ বাহিনী ও আওয়ামী লীগের নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। মামলায় গণভাবে আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম চলে এসেছে। যাইহোক দোষীরা যেন ছাড় না পায়, আর নির্দোষীরা যেন শাস্তি না পায়। এক বছর হয়ে গেল, কিন্তু আমরা বিচার পাচ্ছি না। দ্রুত বিচারের দাবি জানাচ্ছি৷ একইসাথে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, সম্মানজনক পুনর্বাসনের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
কুষ্টিয়া শহরে গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ৫ আগস্ট আন্দোলকারী সুরুজ আলী বাবু পুলিশের গুলিতে নিহত হন। নিহত বাবু কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর গ্রামের শালদহ এলাকার মৃত নওশের আলীর ছেলে। তিনি পেশায় স্বর্ণকার ছিলেন। আন্দোলন চলাকালে ৫ আগস্ট বিকাল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়ার বার্মিজ গলির সামনে রাস্তার উপর আন্দোলনকারী বাবুকে হত্যা করা হয়। ওইদিনই ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার মরদেহ দাফন করা হয়। এ ঘটনায় রাইসুল হক নামে একব্যক্তি বাদী হয়ে ৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও ৪০/৫০ জনকে।
সুরুজ আলীর স্ত্রী ফাহিমা খাতুন বলেন, আমার স্বামীর বুকে গুলি করে হত্যা করেছে পুলিশ। প্রকাশ্যে বুকে গুলি করে হত্যা করেছে পুলিশ৷ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। হত্যা করার পর এক বছর পার হয়ে গেল। কিন্তু আমরা বিচার পেলাম না। আমরা মামলা করার আগেই একজন ব্যক্তি মামলা করেছে। এ মামলার বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। তবে এই মামলায় অর্থ বানিজ্য করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্ত করে নির্দোষীদের অব্যাহতি দেয়া হোক আর দোষীদের শাস্তি দেয়া হোক। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, সম্মানজনক পুনর্বাসন ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিতের দাবিও জানান তিনি।
৫ আগস্ট দুপুর দেড়টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের থানার মোড়ে আশরাফুল ইসলামকে তলপেটে, বাম পায়ের উরুসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়েছে। নিহত আশরাফুল কুষ্টিয়া সদর উপজেলার শালদহ গ্রামের কফিল উদ্দিনের ছেলে। তিনি রঙ মিস্ত্রির কাজ করতেন। এ ঘটনায় ২০ আগস্ট নিহত আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী লাবণী আক্তার ইতি কুষ্টিয়া মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকর্মী সহ মোট ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও ৫০-৬০ জনকে।
আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী লাবণী আক্তার ইতি বলেন, আমার স্বামী আন্দোলন করছিল। এসময় প্রকাশ্যে তাকে গুলি করে হত্যা করেছে পুলিশ। দেশের সবাই দেখেছে আমার স্বামীকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে। কিন্তু মামলায় পুলিশের নাম দিতে দেয়নি। হত্যার এক বছরেও আমি আমরা স্বামী হত্যার বিচার পেলাম না। এতে আমরা খুব হতাশ৷ এ মামলায় অনেক নির্দোষ ব্যক্তির নাম ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। এটাকে পুজি করে অনেকে বানিজ্য করেছে। আমার স্বামীকে যারা হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি চাই৷ আর যারা নির্দোষ তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হোক৷ আমাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, সম্মানজনক পুনর্বাসন ও চাকরি নিশ্চিত করা হোক৷
৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন যুবদল কর্মী সবুজ আলী। আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেলে সারাদেশের মতো কুষ্টিয়াতেও আনন্দ মিছিল করে ছাত্র-জনতা। মিছিল শেষে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৭টা বাড়ি ফেরার পথে শহরের আমলাপাড়ায় আন্দোলনকারী সবুজ আলীকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে শহর আওয়ামী-যুবলীগের নেতাকর্মীরা। নিহত যুবদল কর্মী সবুজ আলী কুষ্টিয়া পৌরসভার চরআমলাপাড়া এলাকার আব্দুল হান্নানের ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রেশমা খাতুন বাদী হয়ে বান্টা বাবুলসহ ২২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিহত সবুজের স্ত্রী ও বাদী রেসমা খাতুন বলেন, আমার স্বামী আন্দোলন ও আনন্দ মিছিল শেষে বাড়ি ফিরছিল। এসময় আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। মূল আসামিদের পুলিশ গ্রেপ্তার করে না। তদন্ত কর্মকতা আসামিদের কাছে থেকে টাকা খায়। হত্যার ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসি চাই।
আব্দুল্লাহ আল মুস্তাকিন (১৩) কুষ্টিয়া পৌরসভার লোকমান হোসনের ছেলে৷ কুষ্টিয়া শহরের ফায়ার সার্ভিস অফিসের পাশে বাবার চায়ের দোকানে কাজ করতো সে। ৫ আগস্ট বিকালে আন্দোলন চলাকালে কুষ্টিয়া শহরের থানার মোড়ে আব্দুল্লাহকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ। এ ঘটনায় আব্দুল্লাহর বাবা লুকমান হোসেন বাদী হয়ে ১৫ আগস্ট রাতে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি মামলা হয়। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিসহ মোট ১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও ১০-২০ জনকে।
আব্দুল্লাহর বাবা লোকমান বলেন, ‘৫ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে কুষ্টিয়া মডেল থানার সামনে আন্দোলন চলছিল। এসময় আমার ছেলেকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করেছে এসআই সাহেব আলী। প্রকাশ্যে সাহেব আলী নিজে হাতে আমার ছেলেকে টেনে নিয়ে বুকে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে। বুকের এক পাশে গুলি করায়, বুক ভেদ করে অন্য পাশ দিয়ে গুলি বেরিয়ে যায়। হাজার হাজার মানুষের চোখের সামনে এসআই সাহেব আলী আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। আমার ছেলে হত্যার ঘটনা এক বছর হতে চলেছে, কিন্তু আমার ছেলে হত্যার বিচার পাচ্ছি না। এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার বা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা একেবারেই নিরব। পুলিশের কোনো আগ্রহ নেই, জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয় না। তিনি আক্ষেপ করে আরও বলেন, এ ঘটনায় দলীয়ভাবে এই ঘটনায় মামলাটা করা হয়েছিল। যার কারণে এই মামলায় কাদের আসামি করা হয়েছিল, না হয়েছিল আমি জানতাম না। তবে সেই মামলায় আসামি হিসেবে সাহেব আলীর নাম ছিল না। পুলিশে তার নাম দিতে দিয়েছিল না, তাকে আসামি করতে দেওয়া হয়েছিল না। আমার ছেলে জুলাই আন্দোলনে জীবন আত্মত্যাগ করল, আমি আমার ছেলের হত্যার বিচার পাইলাম না। এসআই সাহেব আলী প্রকাশ্যে আমার ছেলেকে গুলি করে হত্যার পরও চাকরি করে কিভাবে? আমি এস আই সাহেব আলীর ফাঁসি চাই। প্রকাশ্যে মার্ডার করে এখনো কিভাবে সাহেব আলী ও মুস্তাফিজ চাকরি করে?
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের টিয়ারশেলের ধোয়ায় অসুস্থ হয়ে রক্ত বমি আর শ্বাস কষ্টে মারা যায় মারা যান মাহিম হোসেন (১৭)। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ আগস্ট সকালে তার মৃত্যু হয়। সে খোকসা উপজেলার বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের বামন পাড়া গ্রামের ইব্রাহীম হোসেনের বড় ছেলে। সে দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল। মাহিমের বাবা ইব্রাহীম হোসেন বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
আরও পড়ুন:








