রবিবার

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০ ফাল্গুন, ১৪৩২

সংস্কারহীন রাস্তায় দুর্ভোগে হরিরামপুরের সাত গ্রামের মানুষ

হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি :

প্রকাশিত: ৪ আগস্ট, ২০২৫ ১৭:০৮

শেয়ার

সংস্কারহীন রাস্তায় দুর্ভোগে হরিরামপুরের সাত গ্রামের মানুষ
ছবি সংগৃহীত

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার বলড়া ইউনিয়নের সুলতানপুর এলাকার প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ইট-সোলিং রাস্তা দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন স্থানীয় সাতটি গ্রামের শত শত মানুষ। বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে চলাচল হয়ে পড়ে প্রায় অসম্ভব। যানবাহন তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটেই চলা দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সুলতানপুরের চাতকের মোড় থেকে খাবাসপুর উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত এই রাস্তাটি দুই দশক আগে আংশিক পিচ এবং অধিকাংশ অংশ ইট-সোলিং করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন কোনো ধরনের সংস্কার না হওয়ায় রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে মাটি হয়ে গেছে, অনেক স্থানে সোলিংয়ের ইট ভেঙে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। অর্ধেক রাস্তাও ধসে গিয়ে সরু হয়ে গেছে কোথাও কোথাও।

স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ভিদপ্রেমী তানভীর আহমেদ জানান, “২০ বছর আগে রাস্তাটি ইট-সোলিং করা হলেও এরপর আর কোনো সংস্কার হয়নি। পাকা রাস্তাগুলো প্রশাসনের নজরে থাকলেও এ রাস্তাটি কিছুটা ভিতরে হওয়ায় কেউ গুরুত্ব দেয় না। অথচ সুলতানপুর, করিমকান্দি, বহলাতলী, আদাশুরি, বালিরটেক, খাবাসপুরসহ সাত গ্রামের মানুষ এই রাস্তাটি ব্যবহার করে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কৃষকদের কৃষিপণ্য পরিবহনেও ভোগান্তি চরমে।”

বালিরটেক বাজারের ব্যবসায়ী শাজাহান দেওয়ান বলেন, “অনেকবার বলার পরও রাস্তাটির সংস্কারে কেউ উদ্যোগ নিচ্ছে না। একটু বৃষ্টি হলেই শিশু শিক্ষার্থীদের খালি পায়ে হাঁটাও কষ্টকর হয়ে পড়ে।”

ইজিবাইক চালক মজিবুর রহমান বলেন, “রাস্তা ভাঙাচোরা থাকায় প্রায়ই গাড়ি উল্টে যায়। যাত্রীও পাই না। দ্রুত সংস্কার না হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়বে।”

এ বিষয়ে স্থানীয় ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আউয়াল খান বলেন, “এটি এলজিইডির রাস্তা। বাজেট না থাকায় আপাতত কিছু করা যাচ্ছে না, তবে প্রকল্প পেলে দ্রুত কাজ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।”

বলড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হোসনে আরা বলেন, “আমি দায়িত্ব নিয়েছি গত ডিসেম্বর থেকে। আগের চেয়ারম্যান বলেছিলেন, এমপি কোঠায় প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এরপর আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। রাস্তাটির অবস্থা সত্যিই করুণ।”

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এই রাস্তাটির সংস্কার কাজ শুরু করা না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।



banner close
banner close