শুক্রবার

৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯ ভাদ্র, ১৪৩৩

ফেনীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৩৬ স্থানে ভাঙন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ জুলাই, ২০২৫ ১০:২০

শেয়ার

ফেনীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৩৬ স্থানে ভাঙন
ছবি: সংগৃহীত

স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার বছর না পেরোতে আবারো পানিতে ডুবেছে ফেনীর জনপদ। মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৩৬টি অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

শনিবার বাঁধ ভাঙনের চার দিন পর এমন তথ্য জানিয়েছেন ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ড। তাদের এমন দায়সারা কাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বানভাসি মানুষ।

এর আগে টানা বৃষ্টিপাত ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে মঙ্গলবার জেলার উত্তরের সীমান্তবর্তী পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী এলাকাগুলো বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে। তবে ধীরে ধীরে এসব এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, ছাগলনাইয়া, ফেনী সদর ও দাগনভূঞা উপজেলার কিছু অংশে এখনো লোকালয়ে পানি জমে আছে। পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিচ্ছে নতুন দুর্ভোগ, ভেসে ওঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবার মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পরশুরামে ১৯টি ও ফুলগাজীতে ১৭টিসহ মোট ৩৬টি স্থানে ভেঙেছে। এর আগে চারদিন ধরে ২০টি ভাঙনের তথ্য জানান পাউবো।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গেলো বছরের বন্যায়ও মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের শতাধিক স্থানে ভেঙেছিল। পরে ২০ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দে বাঁধগুলো মেরামত করা হলেও বছর না পেরোতে আবারো ভেঙেছে।

জেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে , পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় বাঁধ ভাঙনে গত মঙ্গলবার থেকে লোকালয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে। ধীরে ধীরে এ দুই উপজেলায় পানি কমে নতুন করে প্লাবিত হয় ছাগলনাইয়া, ফেনী সদর ও দাগনভূঞা উপজেলার আংশিক এলাকা। প্লাবিত ১১২টি গ্রামের লাখো মানুষ পড়েন চরম ভোগান্তিতে। এ ছাড়া ৮৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার মানুষ আশ্রয় নেন।

জেলা কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের দেয়া তথ্য মতে, এবারের বন্যায় মৎস্য খাতে ৮ কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, কৃষিতে ৫ হাজার ৫৬৪ দশমিক ৬১ হেক্টর ফসলি জমি দুর্যোগে আক্রান্ত ও প্রাণিসম্পদে ৬৪ লাখ ৮৮ হাজার ৭৫০ টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পুরোপুরি পানি নেমে যাওয়ার পরই ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত পরিমাণ তুলে ধরা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা।



আরও পড়ুন: