পর্যটননগরী কুয়াকাটাকে আধুনিক, বাসযোগ্য ও টেকসই শহরে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৫১ কোটি ১৫ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেছে কুয়াকাটা পৌরসভা। সোমবার (৭ জুলাই) সকালে পৌরসভা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ত্রৈমাসিক নগর সমন্বয় কমিটি (টিএলসিসি) সভায় এ বাজেট উপস্থাপন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পৌর প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক। উপস্থিত ছিলেন জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরবৃন্দ।
বাজেট উপস্থাপন করেন পৌরসচিব হুমায়ুন কবির। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট আয় ধরা হয়েছে ৫১ কোটি ১৫ লাখ ৬ হাজার ১৬০ টাকা। ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২ কোটি ৫৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এতে সম্ভাব্য উদ্বৃত্ত বা সমাপনী স্থিতি দেখানো হয়েছে ৮ কোটি ৬১ লাখ ১৬ হাজার ১৬০ টাকা।
বাজেটের প্রধান আয় উৎস:
রাজস্ব আয়: ২ কোটি ৫১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা
সরকারি উন্নয়ন সহায়তা: ৩৮ কোটি ১০ লাখ টাকা
মূলধন আয়: ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকা
সভায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটও সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করা হয়। সংশোধিত বাজেটে আয় ছিল ২২ কোটি ২৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫০৩ টাকা এবং ব্যয় ১১ কোটি ৯০ লাখ ৭৮ হাজার ৩৪৩ টাকা। উদ্বৃত্ত ছিল ১০ কোটি ৩২ লাখ ৯১ হাজার ১৬০ টাকা।
নাগরিক সমস্যার চিত্র
সভায় নাগরিক প্রতিনিধিরা সরব হয়ে জলাবদ্ধতা, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিশুদ্ধ পানির সংকট, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থার কথা তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, প্রতিদিন এসব সমস্যার কারণে শহরবাসীর ভোগান্তি বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
প্রশাসকের বক্তব্য
সভাপতির বক্তব্যে পৌর প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক বলেন,
“পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও মানবিক একটি শহর গড়তে হলে জনগণের অংশগ্রহণ ও মতামত অপরিহার্য। নাগরিক চাহিদা বিবেচনায় নিয়েই আমরা উন্নয়ন পরিকল্পনা করছি। বাস্তবায়নেও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সভায় উপস্থিত উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিরা:
সভায় উপস্থিত ছিলেন ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের পরিদর্শক আহাদুজ্জামান, কুয়াকাটা প্রেসক্লাব সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার, ইসলামী আন্দোলনের মহিপুর থানা সভাপতি ফজলুল হক খান, পৌর বিএনপি নেতা মতিউর রহমান, জামায়াত নেতা মাওলানা মাঈনুল ইসলাম মান্নান, বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান, রাধাকৃষ্ণ মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নিহার রঞ্জন মণ্ডল এবং ইঞ্জিনিয়ার নিয়াজ মাহমুদ।
সভা শেষে অংশগ্রহণকারীদের মতামতের ভিত্তিতে স্থানীয় উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:

.jpg)






