ঝিনাইদহের শৈলকুপায় যৌথবাহিনির অভিযানে জাসদ গণবাহিনীর আলোচিত নেতা জিয়ারত মোল্লার বাড়ি থেকে তার বড় ছেলে অব:সদস্য পলাশ মিয়াকে অস্ত্রসহ আটক করেছে সেনাবাহিনী।
সোমবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিক্তিতে ক্যাপ্টেন রাতুলের নেতৃত্বে যৌথবাহিনীর একটি দল উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নের কৃত্তিনগর গ্রামে জাসদ গণ বাহিনীর নেতা জিয়ারত মোল্লার বাড়িঘরে তল্লাশি চালিয়ে ১টি এক নলা বন্দুক,১টি ইলেকট্রিক শট গান এবং ধারালো রামদা উদ্ধার করা হয়। পলাশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ চারটি ছিনতাই-চাঁদাবাজি বাড়ি ভাঙচুর লুটপাটের মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। সন্ত্রাসী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে থানা সূত্র জানিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঝিনাইদহের শৈলকুপায় তৎকালীন বিখ্যাত অস্ত্রবাজ গণবাহিনীর অন্যতম আঞ্চলিক নেতা ছিলেন জিয়ারত আলী মোল্লা। তিনি সরকারের নিকট অস্ত্র জমা দিয়ে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী রাজনীতিতে প্রবেশ করে অন্ধকার জগত ছেড়ে আসলেও পূর্বের নেশা পেশা হতে পরিবারটি সম্পুর্ন মুক্ত হতে পারেনি।দিনে দিনে আওয়ামী রাজনীতির দাপটে বিভিন্ন সময়ে দখল লুটপাট হামলা মামলা সংঘর্ষ সহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে পরিবারসহ গ্যং। বড় ছেলে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য পলাশ এর নেতৃত্বে চলা গ্যাং গ্রুপে থাকা তার মামা, মামাতো ভাইসহ সারুটিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের উঠতি বয়সী যুবকেরা। রাতের আঁধার নামার সাথে সাথে এলাকার হাট বাজার রাস্তাঘাট হয়ে ওঠে আতঙ্কের জনপদ। পলাশের আটকের খবরে সাধারণ মানুষের মাঝে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও গ্রুপে সক্রিয় থাকা অন্যান্য সন্ত্রাসীদের ভয় আতঙ্ক বিরাজমান রয়েছে। পরিবারটির বিরুদ্ধে এলাকায় অভিযোগের অন্ত নেই। বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে সারুটিয়া ইউনিয়নের নির্বাচন কেন্দ্রিক একের পর এক হত্যাকান্ডে বহু লুটপাট ভাংচুর ও চাঁদাবাজির ঘটনায় প্রকাশ্য জড়িয়ে পড়ে পলাশ ও তার বাবা জিয়ারত আলী মোল্লা। সাধারণ মানুষের ভিতরে চাপা ক্ষোভ কষ্ট থাকলেও আওয়ামী লীগের চরম সুবিধাভোগী দাপুটে এ পরিবারটির বিরুদ্ধে ভয়ে মুখ খুলতে পারেনি কেউ।
এ বিষয়ে শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুম খান বলেন বর্তমানে পলাশ শৈলকুপা থানা হেফাজতে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।
আরও পড়ুন:








