সিরাজগঞ্জে ৬৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে ওঠা প্রস্তাবিত রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) প্রকল্পের জমি দখলের হুমকিতে পড়েছে। দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যবহার না হওয়ায় সেখানে গড়ে উঠছে একের পর এক অবৈধ স্থাপনা, যা প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় ধরনের বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি ৫০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে সিরাজগঞ্জ ইপিজেড প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৬৩৮ কোটি টাকায়। ২০২২ সালে বালুভরাট ও বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে প্রকল্পের অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন করা হয়। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে (জিওবি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
জেলা প্রশাসনের সূত্র জানায়, গত ছয় মাস আগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ইপিজেড প্রকল্প নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সিরাজগঞ্জে ইকোনমিক জোন থাকায় এখানে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) গড়ে তোলা হবে। এ লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয় ও পরিকল্পনা কমিশনে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সভার পর ঢাকার ইপিজেড কর্তৃপক্ষ এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে এবং এ প্রকল্প বাস্তবায়নে আগ্রহ প্রকাশ করে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, “আমরা যমুনা নদী থেকে পুনরুদ্ধারকৃত ভূমিতে বাঁধ নির্মাণসহ ভূমি উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন করেছি এবং প্রকল্পটি জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্প এলাকায় অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠছে। দ্রুতই রাজস্ব বিভাগের সহযোগিতায় এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।”
সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) লিটুস লরেন্স চিরান বলেন, “এই ইপিজেড বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলে ৪-৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।”
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, “ক্রসবার ৩ ও ৪ নম্বর এলাকায় ইপিজেড স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয় ও পরিকল্পনা কমিশনে প্রক্রিয়া চলমান। ঢাকার ইপিজেড কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।”
আরও পড়ুন:



.png)




