শুক্রবার

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৭ ফাল্গুন, ১৪৩২

সর্বশেষ
টাঙ্গাইলে আ.লীগ কার্যালয়ে ব্যানার টানিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, ভিডিও ভাইরাল রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে ওজিলের গাড়িবহর শুধুমাত্র দলীয় পরিচয়ের কারণে কেউ যেন জুলুমের শিকার না হয়: ডা. শফিকুর রহমান সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলে চিকিৎসা সেবা বিপর্যস্ত: প্রসূতি ও নবজাতকের জীবন ঝুঁকিতে বিধ্বস্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা পুনর্গঠনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি জরুরি: মির্জা ফখরুল দেশপ্রেমিক সাংবাদিকদের সাময়িক বরখাস্তের ঘটনায় মঞ্চ ২৪ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ নির্বাচনে বিএনপি, ভারত ও আ. লীগের যোগসাজশের আশঙ্কা নাহিদ ইসলামের ভারতে তেলেঙ্গানার জালালপুরে মসজিদে ভাঙচুর, কোরআন অবমাননার অভিযোগ

তালগাছ কাটায় শত বাবুই ছানার মৃত্যু: পরিবেশ ধ্বংসে মানবসৃষ্ট নিষ্ঠুরতা

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৮ জুন, ২০২৫ ১৮:৫৪

শেয়ার

তালগাছ কাটায় শত বাবুই ছানার মৃত্যু: পরিবেশ ধ্বংসে মানবসৃষ্ট নিষ্ঠুরতা

ঝালকাঠি সদর উপজেলার পূর্ব গুয়াটন গ্রামে একটি তালগাছ কেটে ফেলার ঘটনায় ধ্বংস হয়েছে শতাধিক বাবুই পাখির বাসা, ডিম ও ছানা। শুক্রবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায় এ নির্মম ঘটনা ঘটার পর পরিবেশ সচেতন মানুষ ও সাধারণ এলাকাবাসীর মাঝে শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এই গাছটি দীর্ঘদিন ধরে বাবুই পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোবারক আলী ফকির নামের এক ব্যক্তি তার বাড়ির পাশের তালগাছটি ফারুক ব্যাপারীর কাছে বিক্রি করেন। পরে ফারুক গাছ কাটার জন্য শ্রমিক নিয়ে আসেন। স্থানীয় কয়েকজন যুবক গাছটি না কাটার অনুরোধ জানান এবং গাছটির মূল্য পরিশোধ করেও সংরক্ষণ করতে চাইলে শ্রমিকরা তা উপেক্ষা করে গাছটি কেটে ফেলেন। এ সময় প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

গাছটি কাটার ফলে শতাধিক পাখির বাসা, ডিম ও ছানা মাটিতে পড়ে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। শিশুসহ অনেক মানুষ গাছের নিচে আহত ও মৃত ছানাগুলো দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা এটিকে শুধু একটি গাছ কাটার ঘটনা নয়, বরং প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের ওপর সরাসরি আঘাত বলে উল্লেখ করেন।

শেখেরহাট ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মাসুদুর রহমান জানান, “ঘটনাটি জানার পর আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। গিয়ে দেখি বহু পাখির বাসা নষ্ট হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করা হয়েছে এবং তাঁর নির্দেশে গাছটি জব্দ করা হয়েছে।”

ঘটনার পর শনিবার সকালে ঝালকাঠি বন বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সামাজিক বনায়ন নার্সারি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার মো. আরিফুর রহমান বলেন, “একটি বড় তালগাছ কেটে ফেলা হয়েছে, যেখানে অসংখ্য বাবুই পাখির বাসা ছিল। আমরা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

এদিকে ঝালকাঠির পরিবেশবাদী ও সচেতন মহল এই ঘটনাকে পরিবেশবিরোধী অপরাধ হিসেবে অভিহিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, শুধুমাত্র অভিযুক্তদের শাস্তি দিলেই চলবে না—প্রয়োজন গণসচেতনতা। প্রতিটি গাছ, প্রতিটি পাখি প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার ইউএনও ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, “ঘটনার তদন্ত চলছে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।”

পরিবেশ রক্ষায় এমন পদক্ষেপ শুধু আইনি প্রতিক্রিয়া নয়, এটি হতে হবে একটি সামগ্রিক মানবিক ও নৈতিক জাগরণের সূচনা। একটিমাত্র গাছের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অগণিত প্রাণের নিঃশ্বাস।



banner close
banner close