বৃহস্পতিবার

৭ মে, ২০২৬ ২৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

৬টি বিদেশি পিস্তল সহ শীর্ষ সন্ত্রাসী লিপটন আটক, এলাকায় আনন্দ মিছিল 

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৬ জুন, ২০২৫ ১৮:২৬

শেয়ার

৬টি বিদেশি পিস্তল সহ শীর্ষ সন্ত্রাসী লিপটন আটক, এলাকায় আনন্দ মিছিল 
৬টি বিদেশি পিস্তল সহ শীর্ষ সন্ত্রাসী লিপটন আটক।

কুষ্টিয়ায় ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ জাহাঙ্গীর কবির লিপটনকে (৪৮) তিন সহযোগীসহ আটক করেছে সেনাবাহিনী। শুক্রবার (৬ জুন) সকালে সদর উপজেলার উজানগ্রাম ইউনিয়নের দূর্বচারা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

তার আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে আনন্দ মিছিল করেছে এলাকাবাসী। এ সময় ৬টি বিদেশি পিস্তল, একটি লং ব্যারেল গান, ম্যাগজিন, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

আটককৃতরা হলেন- কুষ্টিয়া সদর উপজেলার দূর্বাচারা এলাকার আজিজুর রহমানের ছেলে জাহাঙ্গীর কবির লিপটন (৪৮), রফিকুল ইসলামের ছেলে রাকিব (৩৮), জহির ইসলামের ছেলে লিটন(২৬) ও একই গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে সনেট হাসান (৪৫)।

স্থানীয়রা বলেন, লিপটন শীর্ষ সন্ত্রাসী। সে অস্ত্র ব্যবসা, চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী অপকর্মের সাথে জড়িত। তার অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী বাহিনীর নেতৃত্ব দেয়। তার আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা আনন্দ মিছিল করে। লিপটন ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে হবে। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

জানা গেছে, লিপটন চরমপন্থী সংগঠন গণমুক্তিফৌজের একসময়ের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ছিলেন। ২০১২ সালের ডিএসবির তালিকায় শীর্ষ চরমপন্থী হিসেবে তার নাম রয়েছে। নব্বইয়ের দশকে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। ছাত্র থাকাকালীন চরমপন্থি দল গণমুক্তিফৌজে নাম লেখান। একপর্যায়ে নিজেই বাহিনী গড়ে তোলেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর লিপটন ভারতে পালিয়ে যায়। সেখানে অবস্থান করেই সে দেশে নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। এরপর ২০১৩ সালে লিপটন দেশে ফিরে আসেন।

অভিযোগ রয়েছে, লিপটন নিজেকে ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স’ বলে পরিচয় দিত। সর্বশেষ আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন তার চাঁদা বাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে ভুক্তভোগীরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের হাত ধরে প্রকাশ্যে আসেন বলেও জানা যায়। এরপর থেকে এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন। এদিকে লিপটনকে আটকের পর আনন্দ মিছিল করেছে এলাকাবাসী।

সেনাবাহিনীর কুষ্টিয়া ক্যাম্পের মেজর মোস্তফা জামান বেলা ১২টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বলেন, আটক হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তারা পেশীশক্তি প্রদর্শন মারামারি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডের মাধ্যমে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল।

মেজর মোস্তফা জামান আরও বলেন, শুক্রবার ভোর ৪টা থেকে সেনাবাহিনীর কুষ্টিয়া ক্যাম্পের একটি দল লিপটনের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ৬টি পিস্তল,১টি লং ব্যারেল গান, বিপুল পরিমাণ গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এরপর লিপটন ও তার তিন সহযোগি রাকিব (৩৮), সনেট হাসান (৪৫) ও লিটনকে (২৬) আটক করে ক্যাম্পে আনা হয়। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি হাসান বলেন, একসময় পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ছিলেন লিপটন। তার বিরুদ্ধে ইবি থানায় বেশি কিছু জিডি রয়েছে।



banner close
banner close