বৃহস্পতিবার

৭ মে, ২০২৬ ২৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

কুড়িগ্রামে ধরলাপাড়ে রাষ্ট্রীয় খরচে ডিসি পার্ক, সমালোচনার ঝড়

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৬ জুন, ২০২৫ ১৬:৩১

শেয়ার

কুড়িগ্রামে ধরলাপাড়ে রাষ্ট্রীয় খরচে ডিসি পার্ক, সমালোচনার ঝড়
ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রাম সদরে ধরলা সেতুর পূর্বপাড়ে ধরলা নদীর তীরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গায় বিনোদন পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই পার্কের জন্য নির্ধারিত স্থানে বালু ভরাট করে কাজ শুরু করা হয়েছে। পার্ক নির্মাণের উদ্যোগকে অনেকে স্বাগত জানালেও এর নামকরণ নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে ধরলা সেতুর পূর্বপাড়ে মাধবরাম মৌজায় কুড়িগ্রাম-ভূরুঙ্গামারী সড়ক ঘেষে সওজের ৩০ একর জায়গা রয়েছে। স্থানটির পূর্বপ্রান্তে ভুটানিজ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের নির্ধারিত স্থান। ওই স্থান ঘেষে ধরলা সেতুর গ্রোয়েন বাঁধ। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসব ছুটিতে সেখানেই বিনোদনপ্রেমীরা ভিড় জমান।

জেলাবাসীর কাছে স্থানটি ধরলা বাঁধ নামেই পরিচিত। সম্প্রতি কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) নুসরাত সুলতানা সওজের ওই জমির ১৬ একর জায়গায় নিয়ে বিনোদন পার্কের নামে ডিসি পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। স্থানীয়রা পার্ক নির্মাণের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও এর নামকরণ ও পেছনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আবার সওজের জমি হস্তান্তরের আগেই তাতে তাড়াহুড়া করে পার্ক নির্মাণ কাজ শুরু করায় এর আইনি বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পার্কের নামকরণ নিয়ে চলতি বছরের ২০ এপ্রিল রেজ্যুলেশন স্বাক্ষর করেন কুড়িগ্রাম ডিসি নুসরাত সুলাতানা। জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম বেবু এই নামের প্রস্তাবকারী বলে রেজ্যুলেশনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিসি পার্ক নির্মাণের কারণ হিসেবে জেলার মানুষের বিনোদনের কোনো স্থান নেই উল্লেখ করে রেজ্যুলেশনে উল্লেখ করা হয়েছে, পার্কটিতে সীমানা প্রাচীর সহ মিনি চিড়িয়াখানা, রেস্তোরা , পিকনিক স্পট, নামাজ ঘর, শিশু কর্ণার নির্মাণ এবং ফলজ ও বনজসহ বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরোপন করা হবে। গাছগুলো বাৎসরিক ইজারা প্রদানের মাধ্যমে ইজারাকৃত অর্থ দিয়ে পার্কটিতে নিযুক্ত জনবলের ব্যয় সংকুলান করা হবে।

এছাড়াও পার্কের অভ্যন্তরে দোকান ঘর নির্মাণ করে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের দ্বারা পরিচালনা করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারি জায়গায় সরকারি অর্থ ব্যয়ে পার্ক নির্মাণ করে নাম ডিসি পার্ক দেয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার সাথে এই নাম নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন জেলার বাসিন্দারা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চলছে সমালোচনা।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, ধরলা নদী কুড়িগ্রাম জেলার ঐতিহ্য। এই নদী তীরেই কুড়িগ্রাম শহর। ধরলা কুড়িগ্রামকে ব্রান্ডিং করে। রাষ্ট্রীয় খরচে পার্ক নির্মাণ করে ডিসি পার্ক নামকরণ বিধি সম্মত নয়।

পার্কটির নাম ধরলা পার্ক কিংবা কুড়িগ্রাম পার্ক রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এদিকে জেলা প্রশাসকের বাসভবনের ঠিক পেছনেই পরিত্যক্ত শিশু পার্ক এবং শহরের ডায়াবেটিক হাসপাতাল সংলগ্ন স্থানে প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে সদ্য নির্মিত জেলা পরিষদ শিশু পার্ক চালু না করে নতুন করে বড় বরাদ্দ ব্যয়ে পার্ক নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। এসবের পেছনে ইজারা বাণিজ্য করে জনগণের পকেট কাটার উদ্দেশ্য আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।



banner close
banner close