শুক্রবার

২ মে, ২০২৫
১৮ বৈশাখ, ১৪৩২
৪ জিলক্বদ, ১৪৪৬

রাজীবপুর মহিলা কলেজে বিশেষ ক্লাসের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়

সুজন মাহমুদ, রৌমারী,কুড়িগ্রাম

প্রকাশিত: ১১ মার্চ, ২০২৫ ১১:৪৪

শেয়ার

রাজীবপুর মহিলা কলেজে বিশেষ ক্লাসের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়
বিশেষ ক্লাসের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়। বাংলা এডিশন

কুড়িগ্রামের রাজীবপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিশেষ ক্লাসের নামে জোরপূর্বক অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার ( মার্চ) সকাল ১১টায় সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টির সত্যতাও পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থী কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ফরম ফিলাপ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে মানবিক শাখার জন্য ,৮০০ টাকা এবং বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ,০০০ টাকা। তবে এই ফি বাইরে বিশেষ ক্লাসের নামে আরও ,০০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে।

রাজীবপুর মহিলা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইভা খাতুন রুমকি জানান, “ফরম ফিলাপ ফি ,৮০০ টাকা নেওয়া হয়েছে, এর পাশাপাশি কোচিংয়ের জন্য ,০০০ টাকা দিতে হয়েছে।" নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, “কোচিং ফি না দিলে ফরম ফিলাপ হবে না বলে স্যাররা চাপ দিয়েছেন। বাধ্য হয়ে আমরা টাকা দিয়েছি। আমাদের মধ্যে অনেকের বাবা কৃষিকাজ, দিনমজুরির কাজ করেন, কারও "মা'' নৌকা চালিয়ে সংসার চালান। ফরম ফিলাপের টাকা জোগাড়ই যেখানে কষ্টকর, সেখানে অতিরিক্ত ,০০০ টাকা জোগাড় করা খুবই কঠিন।"

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী কলেজের ইংরেজি শিক্ষক রেজাউল করিমের নামে অভিযোগ করে বলেন, "আমি শুধু বলছিলাম স্যার! আমাদের তো অর্থনীতি অপশনাল এটা তো কঠিন। সপ্তাহে দুইদিন যদি ইংরেজি-আইসিটির পাশাপাশি অর্থনীতি টা দিতে পারেন। এটা বলায় স্যার আমার ওপর চড়াও হয়ে আমাকে বাবা-মা তুলে গালিগালাজ করে। সেদিন আমি বাসায় গিয়ে সারাদিন কান্নাকাটি করেছি। আম্মা কলেজেও আসতে চেয়েছিল।"

তবে অভিযোগের বিষয়ে ইংরেজি প্রভাষক মুহা. রেজাউল করিম বাংলা এডিশন কে বলেন, "পড়াশোনা সংক্রান্ত বিষয়ে আমি শিক্ষার্থীদের শাসন করি।" কিন্তু টাকার বিষয়ে আমি তাদের সাথে কখনও কোনো কথা বলি না। আমি সব সময় তাদের সহযোগিতা করেছি। কিছু শিক্ষার্থী আছে যাদের কে আমি বই কিনে দিয়েছি। আসলে আমরা চাই আমাদের প্রতিষ্ঠান টা সুনাম অর্জন করুক। রেজাল্ট ভালো হলেই তো কেবল আমাদের সুনাম হবে।

কলেজে কয়েকজন শিক্ষার্থীর অবিভাবকও এসেছিলেন ফরম ফিলাপ করাতে। বাংলা এডিশন তাদের সঙ্গেও কথা বলেছে। তারা জানান, "ফরম ফিলাপের টাকাই দিতে পারি না তার মধ্যে আরও দুই হাজার টাকা বাড়তি দিতে হচ্ছে।" শিক্ষার্থীদের অবিভাবকরা অভিযোগ করে আরও বলেন, ফরম ফিলাপ ফি ধরা হয়েছে ,৮০০ টাকা। কারও কাছে নিচ্ছে দুই হাজার, কারও কাছে ,৫০০ আবার কারও কাছে পুরো টাকাই নেওয়া হচ্ছে। এখানেও শিক্ষকরা স্বজনপ্রীতি করছেন বলেও জানান তারা।"

কোচিং এর বিষয়ে জানতে চাইলে রাজীবপুর মহিলা কলেজের বাংলা প্রভাষক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, "এটা কোচিং না, বিশেষ ক্লাসের জন্য দুই হাজার টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।" যারা অকৃতকার্য তারা ঠিক মতো ক্লাসে আসে না। আবার এরা ফরম ফিলাপ করারও যোগ্য না। তাদেরকে আমরা বিশেষ বিবেচনায় যারা - টি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়ে তাদের কে আমরা ফরম ফিলাপের সুযোগ দিয়েছি, এই কারণেই যাতে তারা যেন এসে ক্লাস গুলো করে। কন্টিনিউ ক্লাস রাখার জন্য তাদের কে এখানে আহ্বান করা হয়েছে। তারা খুশি হয়ে যা দিবে সেই টাকা টাই এখানে নেওয়া হবে। "চাপ প্রয়োগ করে টাকা নেওয়া হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, না কাউকে চাপ প্রয়োগ করা হয়নি। যে যেটা পারে। টাকা টা নেওয়া হয় এজন্যই যে, বিগত দিনে ফ্রী ক্লাস করিয়ে দেখেছি কেউ আসে না, টাকা দিলে ওইটার চাহিদা থাকবে।" কলেজে বিশেষ ক্লাস করতে হলে টাকা দিতে হয় এমন কোনো নিয়ম আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি একই জবাব দেন।

অতিরিক্ত টাকা আদায় স্বজনপ্রীতি করে ফরম ফিলাপ করার বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে রাজীবপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. লুৎফর রহমান বলেন, "বিশেষ ক্লাসটি শিক্ষার্থীদের অনুরোধেই নেওয়ার পরিকল্পনা হয়। অনেক শিক্ষার্থী আছে যাদের কে ফোন দিয়েও কলেজে নিয়ে আসা যায়নি। তারা ক্লাসে আসে না। এখন শিক্ষার্থীরা যদি বলে তারা বিশেষ ক্লাস করবে না তাহলে তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে।"

এসব বিষয়ে কথা হয় রাজীবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাজ্জাদ হোসাইনের সঙ্গে। তিনি বাংলা এডিশন কে বলেন, "ফরম ফিলাপ ফি ,২০০ টাকার বা এর আশেপাশে। কোচিং বা বিশেষ ক্লাসের জন্য অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। বিষয়টি আমি শোনার পর অধ্যক্ষকে বলে দিয়েছি তারা ওটা আর নিবে না।" অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এখতিয়ার উর্ধতন কর্তৃপক্ষের। আমরা তো কিছু করতে পারি না।

banner close
banner close