শনিবার

১৪ মার্চ, ২০২৬ ২৯ ফাল্গুন, ১৪৩২

ট্রাস্টি নাহিদ হাসানের ছত্রছায়ায় কৃষকলীগ নেতা

প্রতিনিধি,কুড়িগ্রাম

প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর, ২০২৪ ১৬:৩৫

শেয়ার

ট্রাস্টি নাহিদ হাসানের ছত্রছায়ায় কৃষকলীগ নেতা
কোলাজ: বাংলা এডিশন

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের, শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি নাহিদ হাসান নলেজ এর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের কৃষক লীগের এক নেতাকে পুনর্বাসন করার অভিযোগ উঠেছে। তিনি আওয়ামী লীগের এই নেতা কে তার ছত্রছায়ায় ও রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনের বিভিন্ন মিছিল মিটিং সমাবেশে সমাজসেবক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন বলে এ ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, কৃষকলীগের নেতা মো. মমিনুর রহমান দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের হয়ে কুড়িগ্রাম-২ আসনের নৌকা প্রতিকের জন্য মনোনয়ন পত্র কিনেছিলেন ও সংসদীয় আসনের বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার টাঙিয়ে ছিলেন। তাছাড়াও তিনি আওয়ামীলীগের একজন সক্রীয় নেতা হিসেবে আওয়ামীলীগের বিভিন্ন প্রোগ্রামে উপস্থিত থাকতেন।

বর্তমানে ট্রাস্টি নাহিদ হাসান নলেজ এর সাথে বিভিন্ন প্রোগ্রামে ঘুরতে, বক্তব্য দিতে দেখা গিয়েছে, ট্রাস্টি নাহিদ হাসান নলেজ এই নেতার ব্যক্তিগত গাড়িতে চলাফেরা করেন। সার্বক্ষণিক ভাবে তাকে ছত্রছায়ায় আগলে রেখেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ২৬ অক্টোবর রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলন কুড়িগ্রাম শাখার আয়োজনে গণ অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ শীর্ষক আলোচনায় তাঁকে বক্তব্য দিতে দেখা গিয়েছে, সেখানে উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টি নাহিদ হাসান নলেজ।

সর্বশেষ ২২ নভেম্বর, নাগেশ্বরীতে রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনের আয়োজনে কৃষক সমাবেশে ট্রাস্টি নাহিদ হাসান নলেজ ও ঐ কৃষকলীগের নেতাকে দেখা গিয়েছে।

এ বিষয় নিয়ে ট্রাস্ট্রি নাহিদ হাসান লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মেজর জেনারেল আমসা আমিন ২০১৮ সালে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন। মমিন সাহেব তখন ধানের শীষের কাজ করলেন কেমন করে? উনি কৃষক লীগ করেছেন। উনি অপরাধ করলে ওনাকে ধরেন। তার আগে ধরতে হবে কৃষক লীগ করে ধানের শীষের ভোট করলেন কেমন করে।’

নাহিদ হাসান বলেন, ‘৪ আগস্ট যেদিন কুড়িগ্রামে আওয়ামী লীগের অফিস ভেঙে ফেলা হয়, কলেজ মোড়ে ধাওয়া দেয়া হয়, সেদিন কুড়িগ্রাম ক্যাতার মোড়ে মমিন সাহেবের নির্মাণাধীন বাড়ির ইট ব্যবহার করা হয়। অপারেশন সাকসেস করার পরে এসে ওই বাড়িতেই বিকেলে খাওয়া দাওয়া করি। সেদিন সঙ্গে ছিল জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুগোলের ছাত্র কাওছারুল ইসলাম দুর্জয়, ফরকের হাটের উৎস ও পাণ্ডুলের মিজানদের বন্ধুরা। মূলকথা হলো, তিনি অপরাধী, না সহযোগী সেটা।‘

তিনি আরও বলেন, ‘ফেরাউনের ঘরেই মুসারা বেড়ে ওঠেন। মা আসিয়ারা তাদের লালন করেন। আমরা কি এই মায়েদের সাথে আর সম্পর্ক রাখবো না? ফেরাউনের ঘর করেছেন বলে মা আসিয়ার শাস্তি দেবো? ১৬ জুলাইয়ের আগে অনেকেই ভিন্ন সংগঠনে কাজ করেছেন। নানান কারণেই করেছেন। ছাত্রলীগের ৪০ ভাগ নাকি শিবিরের ছিলো। এই ৪০ ভাগের সাথে আপনার আচরণ কেমন হবে? সঙ্গে এটাও ভাবতে হবে, ৫ আগস্টের আগে, আমরা পরিচয় গোপন না করে প্রকাশ্যে প্রোগ্রাম করেছি, আমাদের যারা সহযোগিতা করেছেন তারা নিজ পার্টিতে, আওয়ামীলীগে সাইড হয়ে গিয়েছেন, প্রশ্নের মুখে পড়েছেন, সুবিধাও হারিয়েছেন। তাদের সাথে স্বাভাবিক আচরণটা সেল্টার দেওয়া হবে? বাংলাদেশ দরদের ওপর দাড়াবে, না প্রতিশোধ ও ঘৃণার ওপর দাঁড়াবে। পৃথিবীতে কৃতজ্ঞতা বলে কোনো কিছু থাকবে না? একজন পদ পদবীর চেয়ে মানুষ হওয়া বড়। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের শিক্ষা এই যে, বাংলাদেশটা দানবদের না, মানুষের।’



banner close
banner close