ইরানের তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার ওপর আর কোনো দূরত্বসীমা কার্যকর নেই বলে জানিয়েছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। যুদ্ধক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের হুমকির কঠোর জবাব দিতে ইরান প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন সংস্থাটির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মহেব্বি।
শনিবার তেহরানের একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে আইআরজিসি মহাকাশ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মাটির নিচে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি
মহেব্বি জানান, নিজেদের প্রযুক্তিগত মেধা ও দেশের বিস্তৃত ভৌগোলিক পরিবেশ কাজে লাগিয়ে ইরান মাটির নিচে অসংখ্য মিসাইল সিটি বা গোপন ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি তৈরি করেছে। অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের সময় শত্রুপক্ষের ২৬০টি বিমান ভূপাতিত করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, শত্রুপক্ষের অব্যাহত বোমাবর্ষণের মধ্যেও ইরান সামরিক উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করেনি। মাটির ওপরের অস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো নিরাপদে ভূগর্ভে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ ছাড়া গত দুই সপ্তাহে তাদের বাহিনী শত্রুপক্ষের সাতটি এমকিউএম-১৭০ নজরদারি ড্রোন অক্ষত অবস্থায় নামিয়ে এনেছে বলে দাবি করেন আইআরজিসির মুখপাত্র।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কঠোর হুঁশিয়ারি
মহেব্বি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের কোনো ভুল হিসাবের কারণে ইরান আক্রান্ত হলে এমন কঠোর জবাব দেয়া হবে, যার প্রভাব তাদের বহু বছর ধরে অনুভব করতে হবে।
ভবিষ্যতে আবার যুদ্ধ শুরু হলে ইরানের নতুন কিছু সামরিক সক্ষমতা বিশ্ববাসীর সামনে আসবে, যা শত্রুপক্ষকে বিস্মিত করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সামরিক প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরশীল ইরান
সংবাদ সম্মেলনে আইআরজিসি মহাকাশ বাহিনীর তিনটি বড় অর্জনের কথা তুলে ধরেন মহেব্বি। তিনি জানান, বিদেশি অস্ত্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব প্রযুক্তিতে সামরিক সক্ষমতা গড়ে তুলেছে ইরান। ফলে অস্ত্র আমদানিকারক দেশ থেকে অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে দেশটি।
নিজস্ব প্রযুক্তিতে আরমান ক্ষেপণাস্ত্র, ৩৫৮ ড্রোন এবং খোরদাদ-৩ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো অস্ত্র তৈরি করা হয়েছে। এসব সামরিক সরঞ্জাম বিদেশেও পাঠানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মহেব্বির দাবি, সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে ইরান এখন পুরোপুরি স্বনির্ভর। কোনো যন্ত্রাংশের জন্যই অন্য দেশের ওপর নির্ভর করতে হয় না।
চলতি আইআরজিসি মহাকাশ সপ্তাহে এসব নতুন প্রযুক্তি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দেখার সুযোগ থাকবে বলেও জানান তিনি।
সূত্র: মেহের নিউজ
আরও পড়ুন:







