শনিবার

৭ নভেম্বর, ২০২৬ ২৩ কার্তিক, ১৪৩৩

ওয়াশিংটনে ইসলামবিদ্বেষ সামলে জয়ী মুসলিম নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:৫৮

শেয়ার

ওয়াশিংটনে ইসলামবিদ্বেষ সামলে জয়ী মুসলিম নেতারা
ছবি সংগৃহীত

রাজনৈতিক মেরুকরণ আর ইসলামবিদ্বেষের সব দেয়াল গুঁড়িয়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রীতিমতো ব্যালট বিপ্লব ঘটালেন মুসলিম প্রার্থীরা।

ওয়াশিংটনের ক্ষমতার সমীকরণ বদলে দিয়ে সিনেট থেকে প্রতিনিধি পরিষদ, সবখানেই এবার রচিত হলো নতুন ইতিহাস। মার্কিন রাজনীতিতে মুসলিম আমেরিকানরা আজ আর কোনো পার্শ্বচরিত্র নন, বরং ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু।

এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে অন্তত সাতজন মুসলিম আইনপ্রণেতা জয় পেয়েছেন। নাগরিক অধিকার রক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও পররাষ্ট্রনীতির পাশাপাশি গাজায় চলমান মানবিক সংকটের প্রসঙ্গটি ছিল তাঁদের প্রচারের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

সিনেটে প্রথম মুসলিম প্রার্থীর জয়

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রথম সিনেটে কোনো মুসলিম প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। মিশিগানে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে এই ইতিহাস গড়েছেন ৪২ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ। নির্বাচনী মাঠে প্রবল ইসলামবিদ্বেষী আক্রমণ আর গাজা যুদ্ধ নিয়ে স্পষ্ট অবস্থানের কারণে তীব্র বাধার মুখে পড়লেও শেষ পর্যন্ত জয় তাঁরই মুকুটে উঠেছে।

নিউ জার্সিতে নতুন ইতিহাস

এদিকে, নিউ জার্সিতেও তৈরি হয়েছে আরেকটি নতুন ইতিহাস। রিপাবলিকান প্রার্থী গ্রেগ মেলেককে পরাজিত করে কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক সেনা চিকিৎসক ও প্লাস্টিক সার্জন আদম হামাভি। গাজার হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি সোচ্চার ছিলেন যুদ্ধ বন্ধ ও মানবিক সহায়তার পক্ষে।

অন্যান্য আসনে মুসলিম নেতাদের জয়

অন্যদিকে, মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে পঞ্চমবারের মতো বিজয়ী হয়েছেন সোমালি-আমেরিকান নেত্রী ইলহান ওমর। আর মিশিগান থেকে ফের জয় তুলে নিয়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত একমাত্র মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রশিদা তালিব।

পাশাপাশি, নিউইয়র্ক থেকে দারিআলিজা আভিলা শেভালিয়ে, ইন্ডিয়ানা থেকে আন্দ্রে কারসন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার লতিফা সাইমন প্রত্যেকেই তাদের নিজ নিজ আসনে জয় ছিনিয়ে নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে মুসলিম প্রতিনিধিত্বের শিকড় আরও শক্ত করেছেন।

রাজনৈতিক আক্রমণ আর বৈরী পরিবেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সাতজন মুসলিম নেতার এই বিজয় কেবল কয়েকটি আসনের জয় নয় বরং এটি মার্কিন মূলধারার রাজনীতিতে মুসলিম প্রতিনিধিত্বের এক সুদূরপ্রসারী ঐতিহাসিক অভিযাত্রা।