শনিবার

৭ নভেম্বর, ২০২৬ ২২ কার্তিক, ১৪৩৩

নেতানিয়াহু নাকি আইজেনকট, ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে?

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ২২:৫৩

শেয়ার

নেতানিয়াহু নাকি আইজেনকট, ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে?
ছবি সংগৃহীত

ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকট পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন পাওয়ার অবস্থানে পৌঁছেছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আরব-প্রধান জোট জয়েন্ট লিস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এর আগে আরেকটি আরব দল রা’আমও তাঁকে সমর্থনের কথা জানায়। তবে এই সমর্থন নিয়ে আইজেনকট কীভাবে সরকার গঠনের পথে এগোবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

নেসেটে সরকার গঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠতার হিসাব

ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি ও অতি-গোঁড়া ধর্মীয় দলগুলোর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে আইজেনকটের মধ্যপন্থি ইয়াশার পার্টিসহ কয়েকটি দলের জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন।

আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম পেয়েছে যথাক্রমে ১১ ও আটটি আসন। এই দুই দলের সমর্থন পেলে আইজেনকটের পক্ষে ৬৭ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন পাওয়া সম্ভব। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের মিত্র ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম (ইউটিজে) কোনো প্রার্থীর নাম সুপারিশ না করায় তাঁর পক্ষে সুপারিশ করা আইনপ্রণেতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬-এ।

প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ রবিবারের মধ্যে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য একজন প্রার্থী মনোনীত করবেন। মনোনীত ব্যক্তি সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে এই সময় আরও ১৪ দিন বাড়ানো যাবে। তবে পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সুপারিশ পেলেই সরকার গঠন নিশ্চিত হবে, এমন নয়।

আরব দলগুলোর সমর্থনে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের চেষ্টা

আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারেন আইজেনকট। রা’আম সরাসরি সরকারে যোগ দিতে আগ্রহী। অন্যদিকে জয়েন্ট লিস্ট সরকারে যোগ না দিয়ে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে ইসরায়েলের আরব জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষার নিশ্চয়তা চায় দলটি।

এর আগে আরব দলগুলোর সমর্থনে সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছিলেন আইজেনকট। গত ৩১ অক্টোবর সম্ভাব্য সরকারের জন্য চারটি শর্তের কথা জানান তিনি। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলকে ইহুদি, গণতান্ত্রিক, উদার ও সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, সব নাগরিকের জন্য সামরিক বা জাতীয় সেবা নিশ্চিত করা এবং গাজায় হামাসের সামরিক ও শাসনক্ষমতা বিলুপ্ত করা।

এসব শর্তের কারণে আরব দলগুলোর সঙ্গে তাঁর সমঝোতা কঠিন হতে পারে।

ইউটিজের সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা

নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের মিত্র ইউটিজেকে পাশে টানার চেষ্টাও করতে পারেন আইজেনকট। হেরেদি ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের সামরিক সেবায় ছাড় বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় নেতানিয়াহুর ওপর অসন্তুষ্ট দলটি।

একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক সেবার বিষয়ে সমঝোতার বিনিময়ে আইজেনকটের সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেছিল ইউটিজে।

দলটির সাত আইনপ্রণেতা আস্থা ভোটে বিরত থাকলে এবং অন্যরাও ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকলে আইজেনকট ৪৮ ভোট পেয়ে নেতানিয়াহুর পক্ষে থাকা ৪৬ ভোটকে ছাড়িয়ে যেতে পারেন। তবে সরকার পরিচালনার জন্য আইন ও বাজেট পাস করতে নিয়মিত সমর্থন প্রয়োজন হবে।

সামরিক সেবায় ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের ছাড় বজায় রাখার দাবি এবং আইজেনকটের সবার জন্য জাতীয় সেবা নিশ্চিত করার শর্ত এ ধরনের সমঝোতার ক্ষেত্রে বড় বাধা হতে পারে।

জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনাও রয়েছে

নেতানিয়াহু ও তাঁর বিরোধীদের নিয়ে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনাও রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীত্ব পালাক্রমে ভাগ করে নেওয়ার ব্যবস্থাও হতে পারে। তবে নেতানিয়াহুর অধীনে কাজ করার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন আইজেনকট। বিরোধীরাও তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন।

এর আগে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও বেনি গান্তজ ও গাদি আইজেনকট নেতানিয়াহুর জরুরি যুদ্ধকালীন সরকারে যোগ দিয়েছিলেন। তবে ২০২০ সালে নেতানিয়াহু ও গান্তজের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির যে সমঝোতা হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ে।

ইসরায়েলের নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে এখন আরব দলগুলোর সমর্থন, ইউটিজের অবস্থান এবং জাতীয় ঐক্যের সরকারের সম্ভাবনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের মনোনয়ন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক আলোচনার মধ্য দিয়ে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এগোবে।