শুক্রবার

৬ নভেম্বর, ২০২৬ ২২ কার্তিক, ১৪৩৩

ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে চাই না, তবে করতে হতেও পারে: ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:৩২

শেয়ার

ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে চাই না, তবে করতে হতেও পারে: ট্রাম্প
ছবি সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে দেশটিতে আর ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে চান না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সুস্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নিতে পারবে না বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, সম্ভব হলে ইরানের বাকি অংশ ধ্বংস করতে চান না। তবে প্রয়োজনে তাঁকে তা করতে হতে পারে। এ বিষয়ে খুব শিগগিরই জানা যাবে।

ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমের ওপর কঠোর নজরদারির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া ইরান কিছুই করতে পারছে না।

নির্বাচনে পরাজয়ের পর চাপের মুখে ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান দলের পরাজয়ের পর আট মাস ধরে চলমান ইরান যুদ্ধ নিয়ে রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প। সংঘাতের কারণে সৃষ্ট জনঅসন্তোষ এবং জ্বালানি তেলের লাগাতার মূল্যবৃদ্ধিকে নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের আসন লাভের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচনের আগেও ট্রাম্প বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিলেন, ওয়াশিংটনের গ্রহণযোগ্য শর্তে তেহরান চুক্তিতে না এলে ইরানে পুনরায় বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানো হবে।

এরই মধ্যে সংঘাতের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে লোহিত সাগরেও। সেখানে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের অব্যাহত হামলা ও আঞ্চলিক বাহিনীর পাল্টা পদক্ষেপে সামগ্রিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

ইরানের শর্ত নিয়ে বাড়ছে কূটনৈতিক দূরত্ব

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক ঘটনাবলিতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক দূরত্ব বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে তেহরানের শর্ত হলো, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ তাদের দাবিগুলো ওয়াশিংটন মেনে নিলেই কেবল আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসবে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের পাঠানো প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে। তবে একই সঙ্গে সামরিক পদক্ষেপের বিকল্পও খোলা রেখেছেন ট্রাম্প।

এদিকে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিসংলগ্ন জলসীমায় সামরিক উত্তেজনা এখনো চরম পর্যায়ে রয়েছে।