বৃহস্পতিবার

৫ নভেম্বর, ২০২৬ ২১ কার্তিক, ১৪৩৩

অনুপ্রবেশকারীর অভিযোগ তুলে মুসলিমদের নিশানা করা হচ্ছে: ওয়াইসি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর, ২০২৬ ২১:৪৭

শেয়ার

অনুপ্রবেশকারীর অভিযোগ তুলে মুসলিমদের নিশানা করা হচ্ছে: ওয়াইসি
ছবি সংগৃহীত

ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া (এসআইআর) এবং নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক কাদেমি মসজিদ সরিয়ে ফেলার উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন হায়দরাবাদের সংসদ সদস্য ও অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তাঁর অভিযোগ, অনুপ্রবেশকারীর গল্প সাজিয়ে মুসলিমদের নিশানা করা হচ্ছে। ধর্মনিরপেক্ষতার যুক্তি ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘুদের সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানা হচ্ছে।

এসআইআর নিয়ে হয়রানির অভিযোগ

ভারতের ভোটার তালিকায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নাম থাকার অভিযোগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে হায়দরাবাদের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আর ভি কারনান জানিয়েছেন, এই যাচাইয়ে কোনো বিদেশি নাগরিক বা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ওয়াইসি বলেন, নির্বাচন কর্মকর্তার বক্তব্য বিজেপি ও সংঘ পরিবারের দীর্ঘদিনের দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তাঁর অভিযোগ, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নাম থাকার অজুহাতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষ।

নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে গিয়ে দিনমজুরদের অন্তত দুই দিনের কর্মসংস্থান হারাতে হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ এবং সরকারি দপ্তরে ছোটাছুটি করতে গিয়ে হাজার হাজার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

কাদেমি মসজিদ সরানোর উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন

নয়াদিল্লির কৃষি ভবন এলাকায় অবস্থিত শতাব্দী প্রাচীন কাদেমি মসজিদ সরিয়ে ফেলার উদ্যোগ নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেন ওয়াইসি। সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের আওতায় কমন সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট নির্মাণের অংশ হিসেবে মসজিদটি সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দিল্লি হাইকোর্টে কেন্দ্রীয় সরকার যুক্তি দিয়েছে, সরকারি সম্পত্তির ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের সঙ্গে মসজিদটির অবস্থান সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

কেন্দ্রের এই যুক্তির জবাবে ওয়াইসি প্রশ্ন তোলেন, সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের উদ্বোধন হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী ভূমিপূজার মাধ্যমে হতে পারলে সেখানে একটি ঐতিহাসিক মসজিদের অবস্থান ধর্মনিরপেক্ষতার পরিপন্থী হবে কেন?

১৯১২ সালের আগেই প্রতিষ্ঠিত মসজিদ

ওয়াইসি বলেন, ১৯১২ সালের আগেই কাদেমি মসজিদটি ওই স্থানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ব্রিটিশরা লুটিয়েনস দিল্লি নির্মাণের সময় জমি অধিগ্রহণ করলেও মসজিদটির জমি অধিগ্রহণের বাইরে রেখেছিল। তাঁর মতে, এটি শুধু একটি উপাসনালয় নয়, ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও অংশ।

এআইএমআইএম প্রধান এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজুর হস্তক্ষেপ দাবি করেন। তাঁর মতে, মসজিদটির ঐতিহাসিক ও আইনি মর্যাদা সরকারের স্বীকার করা উচিত। মালিকানা নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা ওয়াক্ফ ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি করা যেতে পারে।