বৃহস্পতিবার

৫ নভেম্বর, ২০২৬ ২১ কার্তিক, ১৪৩৩

ফ্রান্সজুড়ে ধর্মঘট-বিক্ষোভ, রাজপথে নামছেন ৭ লাখ মানুষ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর, ২০২৬ ১৯:৩৭

শেয়ার

ফ্রান্সজুড়ে ধর্মঘট-বিক্ষোভ, রাজপথে নামছেন ৭ লাখ মানুষ
ছবি সংগৃহীত

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মজুরি ও সরকারি সেবার মান নিয়ে অসন্তোষের জেরে ফ্রান্সজুড়ে ধর্মঘট ও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে পাঁচটি শ্রমিক ইউনিয়ন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দেশটিতে ৫ লাখ থেকে ৭ লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিতে পারেন বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ। রাজধানী প্যারিসে অংশ নিতে পারেন প্রায় এক লাখ মানুষ।

ন্যূনতম মজুরি ও বেতন বাড়ানোর দাবি

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থা ও পর্যাপ্ত সম্পদের অভাব নিয়ে গত সেপ্টেম্বরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। পরে এতে শ্রমিক এবং কয়েক বছর আগে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে গড়ে ওঠা ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের সমর্থকেরাও যোগ দেন।

বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি এবং সরকারি সেবা সুরক্ষিত রাখা। বর্তমানে ফ্রান্সে ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি ১২ দশমিক ৩১ ইউরো। তবে সিএফডিটি ইউনিয়নের প্রধান মেরিলিস লিওঁর দাবি, ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর পাশাপাশি মাসিক নিট বেতনও ১০০ ইউরো বাড়াতে হবে।

নিরাপত্তায় ৭০ হাজার পুলিশ ও জেনদার্ম

বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে ফ্রান্স সরকার। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, কর্মসূচি ঘিরে ৭০ হাজার পুলিশ ও জেনদার্ম মোতায়েন করা হচ্ছে। কোথাও সহিংসতা দেখা দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

দেশজুড়ে ২৫০টির বেশি স্থানে বিক্ষোভ ও কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে স্কুল, হাসপাতাল ও গণপরিবহন খাতে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ৮১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। ধর্মঘটের কারণে প্রায় ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটেছে। তেল শোধনাগারের কর্মীদেরও উৎপাদন বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মীদের কর্মবিরতির কারণে বৃহস্পতিবার ফ্রান্সকে নিজস্ব উৎপাদনের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ আমদানি করতে হতে পারে।

প্যারিসে বিক্ষোভের পথ পরিবর্তন, বাড়ছে সতর্কতা

প্যারিসে বিক্ষোভের জন্য শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর প্রস্তাবিত মিছিলের পথ পরিবর্তন করেছে কর্তৃপক্ষ। শেষ পর্যন্ত প্লাস দ্য লা রিপাবলিক থেকে প্লাস দ্য লা নাসিওঁ পর্যন্ত মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

গত ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে সহিংসতা, দুই হাজারের বেশি দোকান লুট এবং ঐতিহাসিক স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর এবার এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে পুনরুজ্জীবিত ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের সমর্থকেরা শুক্রবার ও শনিবারও অবরোধ ও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। ফলে বৃহস্পতিবারের কর্মসূচির পরও ফ্রান্সে কয়েক দিন ধরে অস্থিরতা চলতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি