বুলডোজারের আঘাতে মুহূর্তেই ভেঙে যাচ্ছে বসতবাড়ি। আশ্রয় হারিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়ছে হাজারো মুসলিম। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিমদের বাড়িঘর উচ্ছেদের ঘটনা নতুন করে সামনে এনেছে পুনর্বাসন ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্ন।
আলমগঞ্জে চার হাজারের বেশি মুসলিম গৃহহীন
সাম্প্রতিক সময়ে, সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা আসামের ধুবড়ি জেলার আলমগঞ্জের উচ্ছেদ অভিযান। গত রবিবার (১ নভেম্বর) সেখানে অভিযান চালিয়ে চার হাজারের বেশি মুসলিমকে গৃহহীন করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। উচ্ছেদ করা হয় প্রায় ৭৫০টি মুসলিম পরিবারের বসতি। প্রায় ৬৫০ বিঘা জমি দখলমুক্ত করতে ব্যবহার করা হয় ৬০টির বেশি বুলডোজার।
প্রশাসনের দাবি, সরকারি জমি দখলমুক্ত করে সেখানে শিল্প পার্ক গড়ে তোলা হবে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত মুসলিম বাসিন্দাদের অভিযোগ, তাঁদের অনেকেই কয়েক দশক ধরে সেখানে বসবাস করছে। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ছাড়াই উচ্ছেদ করায় অনিশ্চয়তায় পড়েছে হাজারো মুসলিম নর-নারী।
বিভিন্ন রাজ্যে ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে বিতর্ক
আসামের বাইরেও ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিমদের বসতবাড়ি ও ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর ও মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে মসজিদ ভাঙার ঘটনা আলোচনায় এসেছে। জ্ঞানবাপী, শাহী জামা মসজিদ ও শাহী ঈদগাহকে ঘিরে ধর্মীয় স্থাপনার মালিকানা নিয়ে বিরোধও আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।
নিরাপত্তাহীনতা ও নাগরিক দুর্ভোগের অভিযোগ
এদিকে, গরু চুরি কিংবা পরিবহনের অভিযোগে মুসলিমদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনাও ঘটেছে বিভিন্ন এলাকায়। কলকাতার জ্যোতিনগর কলোনিতে পানির সরবরাহ বন্ধ থাকার অভিযোগ তুলে দুর্ভোগের কথা জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।
মানবিক পুনর্বাসনের প্রশ্ন
মুসলিমদের বাড়িঘর হারানো, ধর্মীয় স্থাপনা দখল-ভাঙচুর ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ, সব মিলিয়ে সামনে আসছে মুসলিম সংখ্যালঘুদের অধিকার ও মানবিক পুনর্বাসনের প্রশ্ন। আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি উচ্ছেদ হওয়া মুসলিমদের আশ্রয়, নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে দাবি বিশ্লেষকদের।
আরও পড়ুন:







