মঙ্গলবার

৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১৮ কার্তিক, ১৪৩৩

হরমুজ প্রণালিতে ৯ দিনে ১১ তেলবাহী জাহাজে আগুনের দাবি ইরানের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ নভেম্বর, ২০২৬ ২২:৫০

শেয়ার

হরমুজ প্রণালিতে ৯ দিনে ১১ তেলবাহী জাহাজে আগুনের দাবি ইরানের
ছবি সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে গত নয় দিনে ১১টি তেলবাহী জাহাজে আগুন লাগার দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি। কয়েকটি জাহাজ সমুদ্রের গভীরে ডুবে গেছে বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের প্রধান চলাচল রুটগুলো এখনো জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ও নিরাপদ রয়েছে।

৯ দিনে ১১ জাহাজে আগুনের দাবি

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আইআরআইবি জানায়, গত ২৫ অক্টোবর থেকে পরবর্তী নয় দিনে হরমুজ প্রণালিতে ১১টি তেলবাহী জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে কি না, তা প্রদত্ত তথ্যে স্পষ্ট নয়।

এর আগে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির প্রধান নৌপথগুলো জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও নিরাপদ রয়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, সপ্তাহের শুরুতে প্রণালির ওপর দিয়ে উড্ডয়নের সময় সেখানে ইরানের নৌবাহিনীর কোনো জাহাজ দেখতে পাননি।

অক্টোবরে বাণিজ্যিক জাহাজে ৩০ হামলা

যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনীর মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার জানিয়েছে, শুধু অক্টোবর মাসেই বাণিজ্যিক জাহাজে ৩০টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এক মাসে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার এটিই রেকর্ডসংখ্যক ঘটনা।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে ইরান।

বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবহনের পথ

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। ফলে এই নৌপথে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলীয় নৌপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারছে।

তবে ইরানের অব্যাহত হুমকি ও জাহাজে হামলার আশঙ্কায় এই নৌপথে চলাচলের ঝুঁকি ও পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হচ্ছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের দামের ওপর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাচ্ছে তেহরান।

সূত্র: সিবিএস নিউজ