রবিবার

১ নভেম্বর, ২০২৬ ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩

প্যালেস্টাইন অ্যাকশন নিষিদ্ধের প্রতিবাদে লন্ডনে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ১৩৯

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ নভেম্বর, ২০২৬ ১৭:৫২

শেয়ার

প্যালেস্টাইন অ্যাকশন নিষিদ্ধের প্রতিবাদে লন্ডনে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ১৩৯
ছবি সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে লন্ডনে বিক্ষোভ থেকে ১৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আয়োজিত সমাবেশে অংশ নেওয়ার অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

শনিবার লন্ডনে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের বাইরে কয়েক শ মানুষ এই বিক্ষোভে অংশ নেন। বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের আইনে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের ওপর নিষেধাজ্ঞা গত বছরের জুলাইয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের সময় কার্যকর হয়। বুধবার যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্টে সংগঠনটির নিষিদ্ধকরণের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির আগে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হলো।

১৩৯ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানাল পুলিশ

শনিবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, বিক্ষোভ থেকে মোট ১৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে দিনের শুরুতে ৪৮ জনকে আটকের কথা জানিয়েছিল পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রতি সমর্থন প্রকাশের অভিযোগ রয়েছে।

তবে পুলিশের এই অবস্থানের সমালোচনা করেছেন লেবার পার্টির সংসদ সদস্য জন ম্যাকডোনেল। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, কোনো সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই সংগঠনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করা হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায় না। এমন প্রতিবাদকে গ্রেপ্তারযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করাও ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত সরকার ভুল করেছে বলেও মনে করেন এই সংসদ সদস্য।

নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিতর্ক, প্রতিবাদ এডিনবরাতেও

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জুলাইয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে এটিই প্রথম বড় আকারের বিক্ষোভ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, ফিলিস্তিনপন্থী কণ্ঠস্বর দমনের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সংগঠনটি আল-কায়েদা ও আইএসআইএলসহ (আইএসআইএস) নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর তালিকায় যুক্ত হয়েছে।

স্কটল্যান্ডের রাজধানী এডিনবরায় যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটের বাইরেও বিক্ষোভ করেছেন আন্দোলনকারীরা। তবে সেখানে কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি। লন্ডন ও এডিনবরার বিক্ষোভকারীদের হাতে আমি গণহত্যার বিরোধিতা করি, প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থন করি লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

গ্রেপ্তারের সংখ্যা চার হাজার ছাড়ানোর দাবি

বিক্ষোভের আয়োজক সংগঠন ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস জানিয়েছে, শনিবারের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে আটক ব্যক্তির সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে।

সংগঠনটির এক মুখপাত্র বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে নীরব অবস্থান কর্মসূচি পালন এবং গণহত্যার বিরোধিতা ও প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের প্রতি সমর্থন জানানোর কারণে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে চার হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা ভয়াবহ বাস্তবতা।

ওই মুখপাত্রের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করা এবং প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের বাধার মুখে পড়া ইসরায়েলি অস্ত্র কোম্পানিগুলোর স্বার্থ রক্ষাই নিষেধাজ্ঞার পেছনে কাজ করেছে। তাঁর মতে, সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলা এই নিষেধাজ্ঞার প্রকৃত উদ্দেশ্য নয়।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান অ্যামনেস্টির

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউকের যোগাযোগ ও প্রচার বিভাগের প্রধান ফেলিক্স জ্যাকেনসও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বয়স্ক মানুষ ও কিশোর-কিশোরীসহ বিভিন্ন বয়সের বিক্ষোভকারীদের হাতে প্ল্যাকার্ড থাকার কারণে তাঁদের পুলিশি ভ্যানে তুলে নেওয়ার ঘটনা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত।

জ্যাকেনসের মতে, প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পাশাপাশি মানুষের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার আরও সুরক্ষিত করতে আইন সংস্কার করা প্রয়োজন।