শনিবার

৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬ কার্তিক, ১৪৩৩

ভোটের পরদিনই ইরানে হামলার প্রস্তুতি, মিত্রদের সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৫৭

শেয়ার

ভোটের পরদিনই ইরানে হামলার প্রস্তুতি, মিত্রদের সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র
ছবি সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরদিন, আগামী ৪ নভেম্বর ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। সম্ভাব্য এ হামলার বিষয়ে পারস্য উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে সামরিক অভিযানের জন্য প্রস্তুত থাকার বিষয়েও তাদের অবহিত করা হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এমএস নাউ এ বিষয়ে অবগত পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর তিনজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলাটি স্বল্পস্থায়ী হলেও তীব্র হতে পারে। ইরান পাল্টা হামলা চালাতে পারে, এমন আশঙ্কায় উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানাচ্ছে।

মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহারে আপত্তি জানাতে পারে মিত্ররা

ওই কর্মকর্তাদের একজন জানিয়েছেন, ইরানে হামলা চালানোর জন্য নিজেদের ভূখণ্ডে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের বিরোধিতা করতে পারে কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ। এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তিনি অবাক হবেন না বলেও মন্তব্য করেন।

গত ১ সেপ্টেম্বরের পর থেকে ইরানে আর কোনো হামলা চালায়নি যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এমএস নাউকে জানান, সম্ভাব্য বা অস্তিত্বহীন কোনো সংবেদনশীল সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে তারা মন্তব্য করেন না। তবে ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব ধরনের বিকল্প খোলা রেখেছেন বলে জানান তিনি।

পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নতুন করে হামলার আশঙ্কার মধ্যে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছেন। একই সঙ্গে ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান না চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

খামেনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন, শত্রুপক্ষের যেকোনো হুমকির তাৎক্ষণিক জবাব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা মানা হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। প্রায় আট মাস ধরে চলা এ সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। বেড়েছে জ্বালানির দাম। এতে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি ও বৈশ্বিক বাণিজ্য চাপের মুখে পড়েছে।