শুক্রবার

৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫ কার্তিক, ১৪৩৩

যাদের নির্যাতন করেছেন, সেই মুসলিমদের ওপরই নির্ভরশীল নেতানিয়াহু!

নিজস্ব প্রতিবেদক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৫৩

শেয়ার

যাদের নির্যাতন করেছেন, সেই মুসলিমদের ওপরই নির্ভরশীল নেতানিয়াহু!
ছবি সংগৃহীত

ইসরাইলের নির্বাচন কমিশন শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভোটের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করেছে। গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে মানুষ খুব আগ্রহ নিয়ে ভোট দিয়েছে, যার হার ছিল ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ। মোট ভোট দিয়েছে ৫৭ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৫ জন।

চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর পক্ষে থাকা জোটটি বড় ধাক্কা খেয়েছে। আগের পার্লামেন্টে তাদের ৬৮টি আসন থাকলেও, এবার তা কমে নেমে এসেছে মাত্র ৫৩টিতে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন।

দলভিত্তিক আসন বণ্টন

দলগুলোর হিসাব দেখলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়। নেতানিয়াহুর নিজের দল লিকুদ পার্টি পেয়েছে ২৭টি আসন। এছাড়া ইয়াশার পার্টি ২১টি, বি'ইয়াচাদ ১২টি, জয়েন্ট লিস্ট ১১টি, দ্য ডেমোক্র্যাটস ৮টি এবং রা'আম ৮টি আসন পেয়েছে।

ইসরাইল বেইতেনু, ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম ও ওতজমা ইয়েহুদিত পেয়েছে ৭টি করে আসন। আর শাস ও রিলিজিয়াস জায়োনিজম পেয়েছে ৬টি করে আসন। অবশ্য কিছু ছোট দল ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় পাস করতে পারেনি।

এদিকে, ভোটের পর কারচুপি বা জালিয়াতির কিছু অভিযোগ উঠলেও নির্বাচন কমিশন পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই এবং এতে চূড়ান্ত ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়বে না।

আরব দলগুলোর রেকর্ড সাফল্য

সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে আরব দলগুলো। আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো মিলে এবার জিতেছে রেকর্ড ১৯টি আসন, যা আগেরবার ছিল মোটে ১০টি।

ইসরাইলে সরকার গঠন করতে হলে জাদুকরী বা ম্যাজিক ফিগার হিসেবে অন্তত ৬১টি আসন দরকার হয়। কিন্তু সমস্যা হলো, নেতানিয়াহুর জোট বা বিরোধী জোট, কারো একার পক্ষেই এই ৬১টি আসন নেই। দুই পক্ষের কাউকেই সরকার বানাতে হলে অন্য দল বা আরব দলগুলোর সাহায্য বা সমর্থন নিতেই হবে। আর এখানেই আরব দলগুলো হয়ে উঠেছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বা কিংমেকার।

পরবর্তী পদক্ষেপ

আগামী বুধবার (৪ নভেম্বর) এই ফলাফল দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে জমা দেয়া হবে। মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) নতুন পার্লামেন্টের শপথ নেয়ার কথা থাকলেও, ধারণা করা হচ্ছে সরকার গঠন নিয়ে দরকষাকষি চলতেই থাকবে এবং তা দুই মাসেরও বেশি সময় নিতে পারে। দেশটির প্রেসিডেন্ট সবাইকে দলবল ভুলে দ্রুত একটা সমঝোতায় আসার তাগিদ দিয়েছে।

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, যাদের ওপর এতদিন দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে, সেই আরব ও মুসলিমদের সমর্থন ও ভোটের ওপরই নির্ভর করছে ইসরাইলের নতুন সরকার কার হাতে যাবে।