শুক্রবার

৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫ কার্তিক, ১৪৩৩

ইসরাইলে সরকার গঠনে বিপাকে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৪৮

শেয়ার

ইসরাইলে সরকার গঠনে বিপাকে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট
ছবি সংগৃহীত

ইসরাইলের নির্বাচনে ভোট গণনা শেষে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পায়নি কোনো জোট। ফলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটকে সরকার গঠন নিয়ে জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে। নতুন সরকার গঠনের জন্য দুই নেতাকেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসতে হতে পারে। একই সঙ্গে তাঁদের মিত্রদেরও নিজেদের অবস্থান পরিবর্তনের চাপ সামলাতে হবে। এ তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব ইসরাইল।

নির্বাচনের ফল ও জোটের সমীকরণ

নির্বাচনে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি সর্বোচ্চ ২৭টি এবং আইজেনকোটের যশার পার্টি ২১টি আসন পেয়েছে। তবে ১২০ সদস্যের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো পক্ষই অর্জন করতে পারেনি।

নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থি জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে আইজেনকোটের বিরোধী জোটের আসনসংখ্যা ৪৮। আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে পেয়েছে ১৯টি আসন। ফলে সরকার গঠনের হিসাব-নিকাশে আরব দলগুলোর অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সরকার গঠনের জন্য আইজেনকোটকে আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা, কট্টরপন্থি হারেদি ইহুদিদের সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক করা কিংবা নেতানিয়াহুর সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের মতো বিতর্কিত বিকল্পগুলোর মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।

আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট নিয়ে আইজেনকোটের সংকট

আইজেনকোটের জোটে ইহুদি নেতৃত্বাধীন চারটি দল রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি দল নির্বাচনের আগে আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠন না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া তাঁর পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন কঠিন।

আইজেনকোট এর আগে বলেছিলেন, আরব দলগুলো তাঁর নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করায় তাদের সরকারে রাখা হবে না। তাঁর মিত্র নাফতালি বেনেট ও আভিগডোর লিবারম্যানও আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের বিরোধিতা করেছিলেন।

বিরোধী জোটের মধ্যে দ্য ডেমোক্রেটস দলের নেতা ইয়ার গোলান আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে জোটের অন্য শরিকদের বিরোধিতার কারণে আইজেনকোটের জন্য এ পথে এগোনো কঠিন হয়ে পড়েছে।

কট্টরপন্থিদের সমর্থন নিলে ভাঙতে পারে প্রতিশ্রুতি

বিরোধী জোটের সরকার গঠনের জন্য আরও ১৩টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন। আরব দলগুলোর সমর্থন না পেলে তাদের কট্টরপন্থি দলগুলোর ওপর নির্ভর করতে হতে পারে।

তবে নির্বাচনের আগে কট্টরপন্থি হারেদি ইহুদিদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিরোধিতা করেছিল বিরোধী পক্ষ। ফলে এসব দলের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে গেলে তাদের নির্বাচনী অবস্থানের সঙ্গে সংঘাত তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে নেতানিয়াহুর সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠন করলেও আইজেনকোটের জোটকে বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ নির্বাচনে তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানো।

নেতানিয়াহুর সামনেও সহজ পথ নেই

সরকার গঠনে সংকটে রয়েছেন নেতানিয়াহুও। আরব দলগুলোর সমর্থন নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তাঁর কট্টর ডানপন্থি মিত্ররা এর বিরোধিতা করেছে। ইতামার বেন গভির ও বেজালেল স্মোট্রিচ আরব দলগুলোর সঙ্গে কোনো জোটে না যাওয়ার অবস্থান জানিয়েছেন।

এ পরিস্থিতিতে সরকার গঠনের জন্য নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট—দুজনকেই নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কারণে কোনো পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে ইসরাইলে আবারও নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।