সোমবার

২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১১ কার্তিক, ১৪৩৩

সার্বিয়ায় শিক্ষার্থীদের নির্বাচনি জয়, ভুসিচের দীর্ঘ শাসনের অবসান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৮:০৪

শেয়ার

সার্বিয়ায় শিক্ষার্থীদের নির্বাচনি জয়, ভুসিচের দীর্ঘ শাসনের অবসান
ছবি সংগৃহীত

সার্বিয়ার রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে নির্বাচনে জয় পেয়েছে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলন-সমর্থিত প্রার্থীদের তালিকা। রোববারের নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার ভুসিচ। এর মধ্য দিয়ে বলকান অঞ্চলের দেশটিতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। খবর রয়টার্সের।

জনতাবাদী ও জাতীয়তাবাদী নেতা ভুসিচ ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী কিংবা প্রেসিডেন্ট হিসেবে সার্বিয়ার রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন। তবে দুর্নীতি ও ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী শাসনের অভিযোগে প্রায় দুই বছর ধরে চলা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের মুখে গত সেপ্টেম্বরে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন তিনি।

২০২৪ সালে নোভি সাদ শহরে একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আরও জোরালো হয়।

টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ভুসিচ বলেন, এই নির্বাচনে তাদের পরাজয় স্পষ্ট এবং শিক্ষার্থীদের তালিকা জয়ী হয়েছে।

তাঁর পরাজয় স্বীকারের ঘোষণার পরপরই রাজধানী বেলগ্রেডের রাস্তায় আনন্দ-উল্লাস শুরু হয়। পরে সেখানে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন। গাড়ির হর্ন, মানুষের নাচ এবং শিক্ষার্থীদের বিজয় ও তার খেলা শেষ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে রাজপথ।

সংসদে ১৩৫ থেকে ১৪০ আসন পেতে পারে শিক্ষার্থী-সমর্থিত তালিকা

প্রাথমিক ফলের ভিত্তিতে ভুসিচ জানান, ২৫০ আসনের সংসদে শিক্ষার্থীদের সমর্থিত তালিকা ১৩৫ থেকে ১৪০টি আসন পেতে পারে। তাঁর দল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি (এসএনএস) পেতে পারে ১০৫টি আসন।

বেলগ্রেড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাদোমির সাজিচ শিক্ষার্থীদের সদর দপ্তর থেকে বলেন, আজ রাতে জনগণের কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে। আজ রাতে তাঁরা বিজয় উদ্‌যাপন করছেন, আর আগামীকাল ভবিষ্যৎ গড়বেন।

প্রায় ৬০ লাখ মানুষের দেশ সার্বিয়ায় এ ফলকে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত এপ্রিলে হাঙ্গেরির ভিক্টর অরবানের পরাজয়ের ঘটনার সঙ্গে সার্বিয়ার পরিস্থিতির তুলনা করা হচ্ছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার অভাবের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের জন্যও এই ফল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

ভোটার উপস্থিতি প্রায় ৭০ শতাংশ

রোববার ভোটগ্রহণের দিন সার্বিয়ার বিভিন্ন শহর ও জনপদের ভোটকেন্দ্রগুলোতে দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এমনকি বেলগ্রেডে ভোট দিতে গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় ভুসিচকে।

জরিপ সংস্থা ও নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটার উপস্থিতি প্রায় ৭০ শতাংশে পৌঁছায়। ১৯৯২ সালে যুগোস্লাভিয়া ভেঙে যাওয়ার পর এটিই দেশটিতে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি।

ভোটার কাতারিনা পেত্রোভিচ বলেন, এত বেশি ভোটার উপস্থিতি তাঁকে অবাক করেনি। কারণ, গত দুই বছরে বড় ও শক্তিশালী একটি গণআন্দোলন গড়ে উঠেছে।

দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করে আবার প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন ভুসিচ। ক্ষমতাসীন নেতা হিসেবে তাঁর অবস্থান ছিল শক্তিশালী। ফলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অনেকেই এত দ্রুত তাঁর পরাজয় স্বীকারের বিষয়টি কল্পনাও করেননি।

পরাজয় স্বীকার করেও দলকে শক্তিশালী বললেন ভুসিচ

ভুসিচের সমর্থকেরা তাঁর সরকারের সময়ে অর্থনীতির আধুনিকায়ন এবং নতুন মহাসড়ক, রেলপথ, স্কুল ও হাসপাতাল নির্মাণের কৃতিত্ব তুলে ধরেন।

পরাজয় স্বীকার করলেও ভুসিচ বলেন, কিছু ব্যবসায়ী ও কিছু মানুষ তাঁদের ছেড়ে চলে যাবেন। তবে তাঁদের সংগঠন শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তাঁরা ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী এবং বিরোধী দলে থাকার অভিজ্ঞতাও তাঁদের রয়েছে।